📌 ক্যাথেটার ব্যবহারে অজু ও নামাজের বিধান নিয়ে ইসলামী ফিকহে বিশেষ বিধান রয়েছে। অজু মাজুর ব্যক্তির জন্য প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তে নতুন অজু করার বিধান রয়েছে। ব্যাগ খালি করার ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত সমস্যা না থাকলে তা করা উচিত
ক্যাথেটার ব্যবহারে অজু ও নামাজের বিধান নিয়ে অনেক রোগী ও মুসলমানদের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। ক্যাথেটারের মাধ্যমে ইউরিন ব্যাগে প্রস্রাব জমা হওয়ার কারণে অজু করার নিয়ম কী, ব্যাগে প্রস্রাব থাকলে অজু হবে কি না, এবং অজুর পর আবার প্রস্রাব ব্যাগে চলে গেলে অজু থাকবে কি না — এসব বিষয়ে ইসলামী ফিকহে স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ক্যাথেটার ব্যবহারকারী মাজুর ব্যক্তির জন্য প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তে নতুন অজু করার বিধান রয়েছে।
- 📌 অজুর পর ব্যাগে প্রস্রাব গেলেও ক্যাথেটারের মাধ্যমে প্রস্রাব বের হওয়ার কারণে অজু নষ্ট হবে না।
- 📌 ব্যাগ খালি করার ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত সমস্যা না থাকলে তা করা উচিত, কিন্তু ব্যাগ খুলে যাওয়ার আশঙ্কা বা ব্যথা হলে তা করা বাধ্যতামূলক নয়।
- 📌 শরীয়ত নাপাকি কমানোর জন্য সামর্থ্য থাকলে তা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে।
- 📌 অজুর পর যদি অন্য কোনো কারণে (পায়খানা, বায়ু নির্গমন, ঘুম) অজু ভেঙে যায়, তবে পুনরায় অজু করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
ক্যাথেটার ব্যবহারে অজু ও নামাজের বিধান নিয়ে আল্লাহর পবিত্র কুরআন এবং হাদিসের আলোকে ইসলাম বিশেষ বিধান রেখেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কঠিন করতে চান না’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। ক্যাথেটার ব্যবহারকারী মাজুর ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষের অজুর বিধান থেকে কিছুটা আলাদা বিধান দেওয়া হয়েছে। কারণ, ক্যাথেটার এমন রোগীদের জন্যই ব্যবহার করা হয়, যাদের প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
হানাফি ফিকহে এমন ব্যক্তির জন্য মানদণ্ড হলো, একটি পূর্ণ ফরজ নামাজের ওয়াক্ত এমনভাবে অতিবাহিত হওয়া, যাতে অজু করে ফরজ নামাজ আদায় করার মতো অপবিত্রতামুক্ত সময় থাকে না। প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তে নতুন অজু করার বিধান রয়েছে। যেমন, জোহরের ওয়াক্ত শুরু হলে অজু করে জোহরের নামাজ আদায় করবেন। একই অজু দিয়ে ওই ওয়াক্তের ফরজ, সুন্নত, নফলসহ অজু প্রয়োজন এমন অন্যান্য ইবাদত করতে পারবেন। ওয়াক্ত শেষ হলে পরবর্তী ওয়াক্তের জন্য নতুন অজু করতে হবে।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ফাতিমা বিনতে আবি হোবাইশের অনবরত রক্তস্রাব হলে তিনি নবীজিকে নামাজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে নামাজ ছেড়ে দিতে বলেননি, বরং পবিত্র হয়ে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেন। বর্ণনার শেষে এসেছে, ‘এরপর তুমি প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করবে, যতক্ষণ না পরবর্তী ওয়াক্ত আসে’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২৮)। এই হাদিসের আলোকে ফকিহরা ধারাবাহিক ওজরগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তে নতুন অজুর বিধান উল্লেখ করেছেন।
অজুর পর ব্যাগে প্রস্রাব গেলেও ক্যাথেটারের মাধ্যমে প্রস্রাব বের হওয়ার কারণে অজু নষ্ট হবে না। কারণ, শরীয়ত ওই নির্দিষ্ট ওজরের ব্যাপারে তাকে ছাড় দিয়েছে। তবে অন্য কোনো কারণে (যেমন পায়খানা, বায়ু নির্গমন, ঘুম ইত্যাদি) অজু ভেঙে যাবে এবং পুনরায় অজু করতে হবে।
"আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কঠিন করতে চান না" (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সূত্রে উল্লেখিত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাতিমা বিনতে আবি হোবাইশ, রাসুলুল্লাহ (সা.)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: আয়াত ১৮৫ (সুরা বাকারা), হাদিস ২২৮ (সহিহ বুখারি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!