📌 ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞায় প্রশাসনের মুখোমুখি হয়েছে অর্থসংকট ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতার অভাব। মেঘনা নদীর হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট জনবল ও বাজেট নেই। বরিশালে ইলিশের দাম বেড়ে গেছে এবং সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে
৭ অক্টোবর রাত ১২টায় শুরু হওয়া ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের মুখোমুখি হয়েছে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থসংকট ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতার অভাব। মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মেঘনা নদীর হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট জনবল ও অর্থ নেই। এছাড়াও, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছ থেকে কতটা সহযোগিতা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে প্রশাসন চিন্তিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৭ অক্টোবর রাত ১২টায়** শুরু হওয়া ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের মুখোমুখি হয়েছে অর্থসংকট ও রাজনৈতিক সমর্থনের অভাব।
- 📌 **হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায়** মা ইলিশ রক্ষার জন্য দুটি লঞ্চ ও স্পিডবোটের ব্যবস্থা করা হলেও, প্রকল্পের অবসান ও বাজেট সংকটের কারণে অভিযান চলতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।
- 📌 **বরিশালে ইলিশের দাম** বেড়ে গেছে: প্রতি মণ ইলিশের দাম ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বেড়ে গেছে, প্রতি কেজি ২৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
- 📌 **৮৪ হাজার ২৯৫ জন জেলে** থাকলেও ভিজিএফ চাল পাচ্ছে মাত্র ৭৯ হাজার ৮৯০ পরিবার। প্রতি জেলে পরিবারকে ২২ দিনে ২৫ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে।
- 📌 **মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক দিপেন জমাদ্দার** জানান, উপজেলা টাস্কফোর্সের সভায় নৌ প্রতিমন্ত্রী ও এমপি রাজিব আহসান ইলিশ রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।
- 📌 **মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক কামরুল হাসান** বলেন, ইলিশ প্রকল্পের অবসান ও বাজেট সংকটের কারণে অভিযান অব্যাহত রাখা চ্যালেঞ্জিং হবে।
📰 বিস্তারিত
মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থ ও জনবল সংকট। গত জুনে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অবসান ঘটায়, যার মাধ্যমে অভিযানের বড় বাজেট মিটত। এখন রাজস্ব খাত থেকে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১ থেকে দেড় লাখ টাকা, যা আগের ৫-৬ লাখ টাকার তুলনায় অনেক কম। এছাড়াও, তেলের দাম বাড়ায় এই অর্থে অভিযান অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হিজলা উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি ফারুক খান বলেন, সভা-সেমিনার করে মা ইলিশ রক্ষা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা না চাইলে ইলিশ রক্ষা সম্ভব নয়। রাজনৈতিকভাবে সমর্থন না থাকলে মা ইলিশ নিধন উৎসব চলবে।” হিজলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাব হোসেন খোকন দপ্তরী জানান, “এবার নদীতে কোনো জেলে নামবেন না। আমরা ওরাকুল মাছঘাটে সব জেলেকে নিয়ে সভা করেছি। তাঁদের বলেছি, কোনো হুমকি-ধমকি নয়। সোজা কথা হলো—নদীতে নামা যাবে না।”
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক দিপেন জমাদ্দার বলেন, “মা ইলিশ রক্ষায় উপজেলা টাস্কফোর্সের সভা হয়েছে। সেখানে নৌ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজিব আহসান সবাইকে ইলিশ সম্পদ রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।” মেহেন্দীগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুলাদী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, “দুটি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করা কঠিন। তা ছাড়া প্রকল্প না থাকায় বরাদ্দ সংকট। এর মধ্যেই স্থানীয়দের সহযোগিতায় কাজ করতে হবে।”
জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান বলেন, “মা ইলিশ রক্ষায় এবারের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, গত জুনে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প শেষ হয়েছে। যার মাধ্যমে অভিযানের বড় বাজেট মিটত। এখন রাজস্ব খাত থেকে ব্যয় মেটাতে হবে। বাজেট যদি আগের মতো হয়, তাহলে কীভাবে ২২ দিনের অভিযান চলবে। আগের বাজেটে দুই দিনে নৌযানের তেল শেষ হয়ে যাবে।”
অভিযান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের মেঘনায় এবার দুটি লঞ্চ থাকবে। তা ছাড়া স্পিডবোটও থাকবে। তাঁরা চেষ্টা করছেন মা ইলিশ রক্ষায় নদীতীরবর্তী ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের যুক্ত করতে। এ জন্য প্রতিটি ঘাট থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ৫ জন জনবল নিতে ইউএনওদের চিঠি দিয়েছেন। যদিও মা ইলিশের খনি হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে এখনো কোনো কর্মকর্তা নেই।”
"মা ইলিশ রক্ষা জাতীয় ইস্যু। এ জন্য এমপি-মন্ত্রীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।" — মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক কামরুল হাসান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মেঘনা নদী (হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা), বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. হাদিউজ্জামান, ফারুক খান, আলতাব হোসেন খোকন দপ্তরী, দিপেন জমাদ্দার, মোহাম্মদ আবুল বাশার, কামরুল হাসান, নাসির উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ অক্টোবর (নিষেধাজ্ঞা শুরু), ২২ দিন (নিষেধাজ্ঞা), ১২টা (রাত), ২৫ কেজি (চাল), ৭৯ হাজার ৮৯০ (ভিজিএফ চাল পাওয়ার পরিবার), ৮৪ হাজার ২৯৫ (জেলে), ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা (ইলিশের দাম বেড়ে গেছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!