📌 চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া, যিনি ওয়াসার জমি দখল করে ২২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগে আটকান। আইন অনুযায়ী ওয়াসা বোর্ডের সদস্য ছাড়া কেউ চেয়ারম্যান হতে পারেন না, কিন্তু তিনি সদস্য নন। জমি অধিগ্রহণের মামলায় ওয়াসা আপিল করছে
চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া, যিনি ওয়াসার জমি দখল করে ২২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। আইন অনুযায়ী ওয়াসা বোর্ডের সদস্য ছাড়া কেউ চেয়ারম্যান হতে পারেন না, কিন্তু সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ইদ্রিস মিয়াকে ৩ বছরের মেয়াদে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জমি দখল ও ঋণ নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি তিনি সাবেক বিএনপি নেতা এস আলমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইদ্রিস মিয়া চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, কিন্তু তিনি ওয়াসা বোর্ডের সদস্য নন — যা আইন লঙ্ঘন বলে অভিযোগ
- 📌 ২২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগে ওয়াসার জমি বন্ধক রেখে ইদ্রিস মিয়া ঋণ নেয়া হয়েছে, কিন্তু ঋণ পরিশোধ হয়নি
- 📌 ৯৫৭ শতক জমি (৯.৫৩ একর) ১৯৬২-৬৩ সালে ওয়াসা অধিগ্রহণ করেছিল, কিন্তু ইদ্রিস মিয়া জমির মালিকানা দাবি করছেন
- 📌 ২০০৬ ও ২০১১ সালে ওয়াসা জমি নিয়ে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, কিন্তু জমি আত্মসাতের চেষ্টা চলছে
- 📌 চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার পর ইদ্রিস মিয়া ওয়াসায় যাচ্ছেন না, বলছেন "ব্যস্ত আছি"
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া। তবে তিনি ওয়াসা বোর্ডের সদস্য নন, যা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (পানি সরবরাহ-৩ শাখা) সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইদ্রিস মিয়াকে চেয়ারম্যান পদে ৩ বছরের মেয়াদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী ওয়াসা বোর্ডের সদস্যদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত হতে হবে।
ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে ওয়াসার জমি বন্ধক রেখে ২২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ১৯৬২-৬৩ সালে ওয়াসা চট্টগ্রামের মধ্য হালিশহরে ৯৫৭ শতক জমি অধিগ্রহণ করেছিল। এই জমির প্রায় ১০ একর ইউনিয়ন ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় বন্ধক রেখে ইদ্রিস মিয়ার মালিকানাধীন মেসার্স আজমির ট্রেডিং ঋণ নেয়। ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ইউনিয়ন ব্যাংক জমি নিলামে বিক্রির বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিষয়টি নজরে এলে ওয়াসার তৎকালীন সচিব শারমিন আলম ইউনিয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে চিঠি দেন এবং জাল দলিল তৈরি করে জমি আত্মসাতের অভিযোগ করেন।
ইদ্রিস মিয়া বলেছেন, তিনি সালমা বেগমের সঙ্গে রেজিস্টার্ড বায়না করে ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি বলে আদালতে মামলা চলছে। ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেছেন, ওয়াসার অধিগ্রহণ করা জমি কীভাবে আরেকজনের হয়? এটি অসম্ভব। দীর্ঘদিন জায়গাটি পড়ে থাকার কারণে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নামজারি খতিয়ান সৃজন করে ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
"সালমা বেগমের সঙ্গে রেজিস্টার্ড বায়না করার পর ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছি। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। এ কারণে আদালতে মামলা চলছে।"
ইদ্রিস মিয়া এস আলমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। এস আলমের অর্থায়নে পটিয়ায় নির্মিত আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ নামের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারি তিনি। ইউনিয়ন ব্যাংকটিও এস আলমের মালিকানাধীন ছিল। ইদ্রিস মিয়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। তিনি পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পটিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের মধ্য হালিশহর, খাতুনগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইদ্রিস মিয়া, মোছা. আকতারুন নেছা, মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, শারমিন আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ কোটি টাকা ঋণ, ৯৫৭ শতক জমি, ১০ একর জমি, ৩ বছরের মেয়াদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!