📌 ঠাকুরগাঁওয়ের মাদারগঞ্জ বিএডিসি সার গুদামে ৭ হাজার টন সার মজুত থাকলেও কৃষকদের কাছে সার পৌঁছায় না। গুদামের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ১০০ টন হলেও সেখানে ৭ হাজার টন সার জমা আছে। কৃষকদের সার ঘাটতি ও দাম বাড়ার অভিযোগ উঠেছে
ঠাকুরগাঁও জেলার মাদারগঞ্জ বিএডিসি সার গুদামে ৭ হাজার টন সার মজুত থাকলেও কৃষকদের কাছে সার পৌঁছায় না। গুদামের ধারণক্ষমতা মাত্র ২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন হলেও সেখানে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার টন সার জমা রয়েছে। এর মধ্যে টিএসপি ২ হাজার ৯২১ টন, এমওপি ২ হাজার ৪০ টন এবং ডিএপি ২ হাজার ৭ টন। গুদামের সামনে ৫৭টি সারবোঝাই ট্রাকও খালাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঠাকুরগাঁও মাদারগঞ্জ বিএডিসি সার গুদামে ৭ হাজার টন সার মজুত থাকলেও কৃষকদের কাছে সার পৌঁছায় না
- 📌 গুদামের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ১০০ টন হলেও সেখানে ৭ হাজার টন সার জমা রয়েছে
- 📌 ৫৮টি ট্রাকের সার বিতরণে বাধা সৃষ্টি করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরাদ্দ বণ্টন ব্যবস্থা
- 📌 কৃষকদের সার ঘাটতি ও দাম বাড়ার অভিযোগ — সরকারি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকার বস্তা ১ হাজার ৫৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে
- 📌 ডিলারদের অভিযোগ: আগের মাসের বরাদ্দের তুলনায় বর্তমান বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়
📰 বিস্তারিত
বি.এ.ডিসি সার গুদামের সহকারী হিসাব কর্মকর্তা মো. রাহাত জানান, গুদামে মজুত সার ডিলারদের মধ্যে দ্রুত বিতরণ করা সম্ভব হলে গুদামের জায়গা খালি হবে এবং বাইরে অপেক্ষমাণ ট্রাকগুলোর সারও খালাস করা সম্ভব হবে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ডিলারদের মধ্যে বরাদ্দের বিভাজন না করায় ট্রাকগুলো খালাস করা যাচ্ছে না।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মাজেদুল ইসলাম বলেন, অক্টোবর মাসের বরাদ্দ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অগ্রিম উত্তোলনের নির্দেশনা থাকলেও তা তোলা হয়নি। তিনি দাবি করেন, এটি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা ছিল না। সেপ্টেম্বর মাসে অতিরিক্ত বরাদ্দ হিসেবে ২ হাজার টন টিএসপি ও ১ হাজার টন এমওপি দেওয়া হয়েছে। অক্টোবরের নিয়মিত বরাদ্দ ৭ থেকে ৮ অক্টোবরের দিকে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার রাজিউর রহমান জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ৪১ টন ইউরিয়া, ৭ টন টিএসপি, ১২ দশমিক ২৫ টন ডিএপি এবং সাড়ে ৭ টন এমওপি পেয়েছেন। তিনি বলেন, মাঠের চাহিদার তুলনায় এ বরাদ্দ একেবারেই পর্যাপ্ত নয়।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকার বস্তা খোলাবাজারে ১ হাজার ৫৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষক মামুনুর রশীদ বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা সারের প্রয়োজন নেই বললেও আমন ধান ও শাকসবজির জন্য এ সময়ে সারের প্রয়োজন রয়েছে।
"কৃষকদের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। বরাদ্দ না বাড়িয়ে ডিলার বাড়ানোর চেয়ে বিদ্যমান ডিলারদের বরাদ্দ বাড়ানোই কার্যকর সমাধান হতে পারে"
ঠাকুরগাঁও সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, একদিকে গুদামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সার, অন্যদিকে গুদামের বাইরে সারবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি। আবার মাঠে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকেরা। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও জিপসামের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শুধু সার আছে কি না—এই প্রশ্নের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে কৃষকের প্রয়োজনের সময়ে সেই সার কোথায়, কীভাবে এবং কত দামে পৌঁছাচ্ছে—এই প্রশ্নই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঠাকুরগাঁও জেলার মাদারগঞ্জ বিএডিসি সার গুদাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রাহাত, মাজেদুল ইসলাম, রাজিউর রহমান, আব্দুল লতিফ, কৃষক মামুনুর রশীদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ হাজার টন সার মজুত, ৫৭টি সারবোঝাই ট্রাক, ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দাম বাড়ানো
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!