📌 ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের চার বছর পরেও প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় দুই সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পুনঃ ভেরিফিকেশনের জটিলতায় নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে
৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রায় চার বছর পরেও নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় দুই সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী তাঁদের জীবনের শেষ দেখা পেয়েছেন। মীর তানভীর আহমেদ ও মুমতাহিনা মিমু নামের দুই প্রার্থী কর্মজীবনে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে, যেখানে ১ হাজার ৮০৭ জনকে ক্যাডার পদে সুপারিশ দেওয়া হয়।
- 📌 নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় দুই প্রার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
- 📌 জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানিয়েছিলেন, আগস্ট মাসের মধ্যে ভেরিফিকেশন শেষ করে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
- 📌 পুনঃ ভেরিফিকেশনের সিদ্ধান্তের কারণে আগস্টের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনা নেই বলে সূত্র জানিয়েছে।
- 📌 ৪৫তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর, যেখানে ৩ লাখ ১৮ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছিলেন।
📰 বিস্তারিত
মীর তানভীর আহমেদ নামের এক প্রার্থী কৃষি ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছিলেন। তিনি মাদারীপুরের বাসিন্দা ছিলেন এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছিলেন। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর তিনি নতুন পরিচয়ে কর্মজীবন শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সরকারের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় তাঁর সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে যায়। তাঁর মৃত্যু হয় ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট নীলফামারীতে ট্রেন দুর্ঘটনায়।
অন্যদিকে মুমতাহিনা মিমু নামের আরেক প্রার্থী লাইভস্টক ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছিলেন। তিনি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছিলেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই। দুই প্রার্থীর মৃত্যুই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার করুণ চিত্র তুলে ধরে।
৪৫তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর। প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১২ হাজার ৭৮৯ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬ হাজার ৫৫৮ জন। মৌখিক পরীক্ষার পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় প্রার্থীরা কর্মজীবনে যোগ দিতে পারেননি।
"চার বছর ধরে একটি নিয়োগপ্রক্রিয়া ঝুলে আছে। জমানো টাকা শেষ হয়ে গেছে। পরিবারকে মুখ দেখানোর জায়গা নেই। আমি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি।"
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী গত জুলাই মাসে জানিয়েছিলেন, আগস্ট মাসের মধ্যে ভেরিফিকেশন শেষ করে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পুনঃ ভেরিফিকেশনের সিদ্ধান্তের কারণে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনা আরো দূরে সরে গেছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নীলফামারী, মাদারীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মীর তানভীর আহমেদ, মুমতাহিনা মিমু, আবদুল বারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫তম বিসিএস, ১ হাজার ৮০৭ জন, ৩ লাখ ১৮ হাজার প্রার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!