📌 ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসার মসজিদে নামাজ চলাকালীন পুলিশের টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ছররা গুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৩ থেকে ২৪ জন মাদ্রাসাছাত্র নিহত হন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে মাদ্রাসা শিক্ষক মুহাম্মদ রিদওয়ান হাসান ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ দেওয়া এক জবানবন্দিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসার শিক্ষক মুহাম্মদ রিদওয়ান হাসান জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ চলাকালীন মসজিদে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ছররা গুলি ছুড়ে। এর প্রতিবাদে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরা রাস্তায় নামলে যাত্রাবাড়ীসহ সারা দেশে অন্তত ২৩ থেকে ২৪ জন মাদ্রাসাছাত্র নিহত হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসার মসজিদে নামাজ চলাকালীন পুলিশের গোলাগুলিতে অন্তত ২৩ থেকে ২৪ জন মাদ্রাসাছাত্র নিহত হন।
- 📌 ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মাদ্রাসা শিক্ষক মুহাম্মদ রিদওয়ান হাসান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ জবানবন্দি দেন।
- 📌 ১৮ জুলাই রাত ৮টায় যাত্রাবাড়ী এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে আহমদ আব্দুল্লাহ (১৪) গুরুতর আহত হন এবং পরে সাঁজোয়া যানে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করেন।
- 📌 ২০ জুলাই কারফিউ শিথিলকালে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ফ্লাইওভারের কাছে পুলিশের গুলিতে ইমাম হাসান নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।
- 📌 ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনে গণভবনের উদ্দেশ্যে মিছিলরত অবস্থায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ছাত্র–জনতার উষ্ণ আলিঙ্গনের দৃশ্য দেখে শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হন রিদওয়ান হাসান।
📰 বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ দেওয়া জবানবন্দিতে যাত্রাবাড়ী জামিয়া ইসলামীয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মুহাম্মদ রিদওয়ান হাসান জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ চলাকালীন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসার মসজিদে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ছররা গুলি ছুড়ে। এর প্রতিবাদে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরা একযোগে রাস্তায় নামলে সেদিন যাত্রাবাড়ীতে দুজনসহ সারা দেশে ২৩ থেকে ২৪ জন মাদ্রাসাছাত্র নিহত হন।
রিদওয়ান হাসান আরও জানান, ১৮ জুলাই রাত ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থী আহমদ আব্দুল্লাহকে (১৪) প্রথমে পুলিশ গুলি করে গুরুতর আহত করে। পরে পুলিশ সাঁজোয়া যান দিয়ে তাকে চাপা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২০ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল ছিল উল্লেখ করে রিদওয়ান হাসান বলেন, সে সময় যাত্রাবাড়ীর কাজলা ফ্লাইওভারের পাশে প্রকাশ্যে গুলি করে একজনকে হত্যা করে পুলিশ। পরে জানতে পারেন, নিহত ব্যক্তি পুলিশ সদস্যের ছেলে ইমাম হাসান।
রিদওয়ান হাসান জানান, ৫ আগস্ট বেলা দুইটায় তিনি যাত্রাবাড়ী থেকে মিছিল নিয়ে গণভবনের উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে এলে খবর পান শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হন সেনাবাহিনী সদস্যদের সঙ্গে ছাত্র–জনতার উষ্ণ আলিঙ্গনের দৃশ্য দেখে। তাঁরা গণভবনের দিকে যেতে থাকেন। ওয়ারীর কাছাকাছি এসে মোবাইলে তাঁকে একজন জানান, যাত্রাবাড়ী থানার সামনে প্রচণ্ড গোলাগুলি হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসায় তিন ছাত্র–জনতার মরদেহ আনা হয়েছে। সেদিন যাত্রাবাড়ীতে ৫ থেকে ৬ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, আলেমসহ প্রায় ৬০ জনের মতো ছাত্র–জনতাকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ ও বিজিবি।
"এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন, জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং যারা এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে তাদের বিচার চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যাত্রাবাড়ী, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহাম্মদ রিদওয়ান হাসান (মাদ্রাসা শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ থেকে ২৪ জন নিহত, ১৯ জুলাই ঘটনা ঘটে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!