📌 ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সৌদি আরব প্রশাসনকে 'কূটনৈতিক সুযোগ দিতে' অনুরোধ জানিয়েছে। সৌদি আরব আশঙ্কা করছে, ট্রাম্পের ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তে ইরান তাদের তেল ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ করতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সৌদি আরব প্রশাসনকে 'কূটনৈতিক সুযোগ দিতে' অনুরোধ জানিয়েছে। দুটি আঞ্চলিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে 'আরও কিছু সময়' চেয়েছেন। রিয়াদের প্রধান আশঙ্কা হলো, যদি ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দেন, তাহলে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস এবং ইরানি সামরিক বাহিনী সৌদি আরবের পানি, বিদ্যুৎ, তেল ও জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে অনুরোধ করেছে 'কূটনৈতিক সুযোগ দিতে' ইরান বিষয়ে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে
- 📌 সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ ইরানের সাথে বৈঠকে মিলিত হন এবং তেহরানকে অনুরোধ জানান সৌদি তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য না করা
- 📌 ইরান সৌদির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে, তবে পূর্বে মক্কা চুক্তির প্রতিনিধিদের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই তেহরান সৌদি আরবের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা কমিয়ে দেয়
- 📌 ইসরাইল-আমেরিকান যৌথ অভিযান 'অপারেশন রোরিং লায়ন' ও 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-র সময় ইরান সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি স্থাপনা আক্রমণ করেছিল
- 📌 সৌদি আরবের আশঙ্কা: ইরানের পাল্টা হামলায় তাদের তেল ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
📰 বিস্তারিত
চলতি বছরের মার্চ মাসে ইরান বিরোধী ইসরাইলি-আমেরিকান যৌথ সামরিক অভিযান 'অপারেশন রোরিং লায়ন' এবং 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-র সময় তেহরান সৌদি আরবের বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। তবে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে তেহরান তাদের আক্রমণ কমিয়ে আনে এবং পরবর্তীতে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এই হামলা থামানোর পিছনে ছিল রিয়াদের একটি বার্তা, যেখানে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে তেহরান 'রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করছে' এবং এই আক্রমণ অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবও ইরানে পাল্টা আঘাত হানতে বাধ্য হবে।
সৌদি আরবের এই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা আসে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির (যার মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান) জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সাথে ইরানের সাথে বৈঠকের পর। এই বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মহসিন রেজায়ির সাথে আলোচনা করেন। বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধিরা ইরানের কাছে অনুরোধ জানান যেন সঙ্ঘাত নতুন করে শুরু হলেও তেহরান সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করে। তবে ইরানি পক্ষ এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
"উচ্চপদস্থ সৌদি কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে ‘আরও কিছু সময়’ চেয়েছেন। রিয়াদ আশঙ্কাবোধ করছে যে ট্রাম্প যদি ইরানে হামলার নির্দেশ দেন, তবে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস এবং ইরানি সামরিক বাহিনী সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব (রিয়াদ), ইরান (তেহরান), মক্কা, পাকিস্তান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ, মাসুদ পেজেশকিয়ান, আব্বাস আরাঘচি, মহসিন রেজায়ি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (আঞ্চলিক সূত্র), ৩ (মক্কা চুক্তির দেশ: তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!