📌 ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি দলগুলোর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু সম্প্রদায়ের কলঙ্কিত হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। নেতানিয়াহু সরকারের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি দলগুলোর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে তিনি দেশের সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। হারজগ জোর দিয়ে বলেছেন, বিষয়টি ‘পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা উচিত’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বলেছেন, নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তের হালনাগাদ তথ্য তিনি পর্যবেক্ষণ করছেন, কিন্তু সম্প্রদায়ের কলঙ্কিত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- 📌 নেতানিয়াহু সরকারের অভিযোগ: কাতারের অর্থ অবৈধভাবে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি ভোটারদের ভোটে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
- 📌 পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে কারচুপির কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং ভোট অন্য সময়ের চেয়ে বেশি স্বচ্ছ ছিল।
- 📌 নেতানিয়াহু সরকারের উগ্রপন্থীরা ভোটকেন্দ্রে নানা কৌশল ব্যবহার করে ভোট গ্রহণের গতি কমিয়ে দিয়েছিলেন।
- 📌 নেতানিয়াহু নিজেও কাতারি অর্থ গ্রহণের কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে জড়িয়ে আছেন।
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর সহযোগীরা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যালট জালিয়াতির অভিযোগ তোলার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ তাঁর অবস্থান জানান দিলেন। হারজগ বলেন, ‘আজ সকালে রিপোর্ট করা সন্দেহভাজন বিষয়গুলো তদন্তের হালনাগাদ তথ্য আমি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তবে এমন একটি মুহূর্তেও পুরো একটি সম্প্রদায়, যাঁরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের কলঙ্কিত করা থেকে আমাদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।’
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরোধী জোটের মধ্যে একমাত্র আরব ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছে। এরপরই নেতানিয়াহু ও তাঁর জোটের অন্য সদস্যরা এসব দলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। সরকারের দাবির মূল বিষয় হলো, ভোট কেনা ও ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটে উৎসাহিত করতে কাতারের অর্থ অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
হারেৎস পত্রিকার এক পুলিশ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, নির্বাচনে কারচুপির কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি। বরং মঙ্গলবারের ভোট অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বচ্ছ ছিল। নির্বাচনের দিন নাজারেথে ভোটারদের উপস্থিতি অস্বাভাবিক রকমের বেশি ছিল। কারণ, নেতানিয়াহুর সরকারের উগ্রপন্থীরা আবার ক্ষমতায় এলে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলোর ওপর কী ধরনের হামলা বা পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ ও ভয় কাজ করছিল।
অনিয়মের অল্পবিস্তর যা খবর পাওয়া গেছে, সেগুলো মূলত ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গেই সম্পর্কিত। ভোটকেন্দ্রে পাঠানো অনেক ব্যালট পেপার কেবল হিব্রু ভাষায় ছাপা হয়েছিল, আর উগ্র-ডানপন্থী পর্যবেক্ষকেরা ভোট গ্রহণের গতি কমিয়ে দেওয়ার জন্য নানা ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছিলেন। এ ছাড়া এসব অভিযোগের পেছনে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য রয়েছে। কারণ, নেতানিয়াহু নিজেই এক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে আছেন, যেখানে কাতার নামের উপসাগরীয় রাজতন্ত্রটির ভাবমূর্তি উন্নত করার বিনিময়ে তাঁর উপদেষ্টারা কাতারি অর্থ গ্রহণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
"আমি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, তবে সম্প্রদায়ের কলঙ্কিত হওয়া থেকে আমাদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল, নাজারেথ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!