📌 ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে মাছ ধরার কাজ শুরু হলে মাছঘাটে আবার ফিরে এলো কর্মচাঞ্চল্য। তবে ইলিশের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি, আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে এই জাতীয় মাছ। জেলেরা ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছ ধরে আনে, কিন্তু ইলিশের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় কম বলে ব্যবসায়ীরা হতাশ
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে আবার শুরু হয়েছে মাছ ধরার কাজ। এই সময়ে মাছঘাটে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এলো, কিন্তু ইলিশের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। জেলেরা নদী থেকে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে আনে, যা মাছঘাটে সরবরাহ শুরু করেছে। তবে ইলিশের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় কম বলে ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরার কাজ শুরু হয়েছে, যা মাছঘাটে কর্মচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনে।
- 📌 জেলেরা ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছ ধরে আনে, কিন্তু ইলিশের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের মতোই বড় আকারের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
- 📌 জেলে লিটন তপাদার রাতে নদীতে নেমে ভোরে ১২ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছেন, আর ইসমাইল খান সাতজন মিলে ১৫ হাজার টাকা পেয়েছেন।
- 📌 মাছঘাটের আড়তদার জাহাঙ্গীর সৈয়াল বলেছেন, ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় দাম কমেনি। তবে পাঙাশের সরবরাহ বাড়লে বাজারদরে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
- 📌 চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেছেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের অভিযান কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় জেলেরা সুফল পাচ্ছেন।
📰 বিস্তারিত
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরার কাজ শুরু হলে মাছঘাটে আবার ফিরে এলো কর্মচাঞ্চল্য। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা মাছঘাটে জেলেদের মাছ আহরণ, ঘাটে আনা এবং কেনাবেচার চিত্র দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকেই ইলিশ শিকারে নদীতে নামতে শুরু করেন জেলেরা। ভোরের আলো ফুটতেই মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে থাকেন তাঁরা।
হরিণা ফেরিঘাটসংলগ্ন মাছঘাটে একের পর এক জেলে নৌকা ভিড়ছে। প্লাস্টিকের ট্রেতে সাজিয়ে আনা হচ্ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ঘাটে মাছ নামানোর পরপরই শুরু হচ্ছে দরদাম ও হাঁকডাক। মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে অনেক মাছ। ঘাটটিতে ছোট-বড় প্রায় ২০টি ইলিশের আড়ত রয়েছে। এখানে মাছ সংরক্ষণ করে বিক্রির ব্যবস্থা তুলনামূলক কম। মূলত একশ্রেণির খুচরা ব্যবসায়ী শহরের বাজারে বিক্রির জন্য এবং অন্য ব্যবসায়ীরা চাঁদপুর বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য জেলেদের কাছ থেকে তাজা মাছ কিনে নিচ্ছেন।
গোবিন্দপুর গ্রামের জেলে লিটন তপাদার জানান, রাতে নদীতে নেমে ভোরে ঘাটে এসে ১২ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, এভাবে মাছ পাওয়া গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন বলে আশা করছেন। আরেক জেলে ইসমাইল খান জানান, সাতজন মিলে মধ্যরাতে নদীতে নেমেছিলেন। ধরা পড়া ইলিশ বিক্রি করে পেয়েছেন ১৫ হাজার টাকা। কিছুক্ষণ পর আবারও মাছ ধরতে নদীতে নামবেন। তবে কয়েক দিন পর ইলিশের প্রাপ্যতা কমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
"নিষেধাজ্ঞা শেষে ঘাটে বড় আকারের ইলিশ বেশি আসছে। ছোট ইলিশের সংখ্যা তুলনামূলক কম। ইলিশের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও পাঙাশ পাওয়া যাওয়ায় জেলেদের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।"
মাছঘাটের আড়তদার জাহাঙ্গীর সৈয়াল বলেছেন, চাহিদা বেশি থাকায় ইলিশের দাম কমেনি। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। আর ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। তিনি আরও জানান, ইলিশের পাশাপাশি জেলেদের জালে পাঙাশও ধরা পড়ছে। বড় আকারের পাঙাশ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট আকারের পাঙাশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আড়তদার সেলিম ব্যাপারী বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে ঘাটে মাছ আসতে শুরু করেছে। আজ ও আগামীকাল মাছের সরবরাহ পর্যবেক্ষণ করলে ইলিশের আমদানি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। কারণ, আগের বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দুই দিন মাছের সরবরাহ ভালো থাকলেও পরে তা কমে যেত।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দুটি অভিযান কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় জেলেরা এর সুফল পাচ্ছেন। ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশও পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, পাঙাশের উৎপাদন ও বংশবিস্তার বাড়াতে সরকারিভাবে কার্যকর প্রকল্প নেওয়া হলে এ মাছও ইলিশের মতো জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁদপুর সদর উপজেলা, পদ্মা-মেঘনা নদী, হরিণা মাছঘাট, গোবিন্দপুর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলে লিটন তপাদার, জেলে ইসমাইল খান, আড়তদার জাহাঙ্গীর সৈয়াল, আড়তদার সেলিম ব্যাপারী, চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ৩০ অক্টোবর, ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত, ২০টি আড়ত, ১২ হাজার টাকা, ১৫ হাজার টাকা, ২ হাজার ৫০০-২ হাজার ৬০০ টাকা (ইলিশের দাম), ১ হাজার ২০০ টাকা (পাঙাশের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!