📌 ২২ জুলাই থেকে UAE-তে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা বাতিল — প্রায় ৫,০০০ আক্রান্ত। তাহের হোসেন (নোয়াখালী, ৮ বছর লন্ড্রি দোকান) বিমানবন্দরে জানতে পারেন ভিসা বাতিল। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী — পাকিস্তান/নেপালেও একই ঘটনা। দূতাবাস ৩০০ আবেদন পাঠিয়েছে, ১,৪০০ যাচাইয়ে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের হঠাৎ ভিসা বাতিলের আতঙ্কে দিন কাটছে — পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ২২ জুলাই থেকে অনেকের কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ছুটিতে দেশে এসে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশে বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারছেন তাদের ভিসা কার্যকর নেই — আবুধাবি প্রবাসী নোয়াখালীর তাহের হোসেন (৮ বছর ধরে লন্ড্রি দোকানে কাজ) বিমানবন্দরে নেমেই জানতে পারেন তার ভিসা বাতিল, শুক্রবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ঢাকায় ফিরে আসেন — প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ত
- তাহের হোসেন — নোয়াখালী, ৮ বছর ধরে আবুধাবিতে লন্ড্রি দোকানে কাজ; ১ মাসের ছুটিতে দেশে এসে ২ বছর পর পরিবারের সাথে ছুটি কাটিয়ে ফেরার সময় আবুধাবি বিমানবন্দরে জানতে পারেন ভিসা বাতিল।
- সময়রেখা: ২২ জুলাই থেকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল শুরু — প্রায় ৫,০০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল।
- আবুধাবি দূতাবাস: ৩০০ প্রবাসীর আবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, আরও ১,৪০০টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে রয়েছে।
- প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী: পাকিস্তান, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা — কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, আশা করি শিগগিরই জানতে পারব।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি — কেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।
- বিমান টিকিট: ভিসা বাতিলের আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে ফেরার চেষ্টায় একমুখী টিকিটের দাম প্রায় ১ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
- প্রবাসী শওকত আলী মীরন: আগামী সপ্তাহে ছুটিতে বাংলাদেশে যাওয়ার কথা — ভিসা হারানোর শঙ্কা ও টিকিট নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দূতাবাসে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
এক মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন আবুধাবি প্রবাসী নোয়াখালীর তাহের হোসেন — ৮ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি লন্ড্রি দোকানে কাজ করেন তিনি। ২ বছর পর স্ত্রী-সন্তান আর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে রুটি-রুজির তাগিদে পুনরায় ফিরছিলেন কর্মস্থলে — বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পৌঁছান আবুধাবি বিমানবন্দরে, সে দেশের ইমিগ্রেশন পার হতে গিয়েই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে জানান তার ভিসা বাতিল হয়ে গেছে এবং ফিরতে হবে বাংলাদেশেই — বিমানবন্দরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তাহের, চোখের সামনে ভেসে ওঠে পরিবারের মুখ, ঋণের বোঝা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। শেষপর্যন্ত শুক্রবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আবার ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। তাহের হোসেন যুগান্তরকে বলেন, "২ বছর পর পরিবারের সঙ্গে ১ মাস কাটিয়ে কাজে ফিরছিলাম — আবুধাবিতে নেমে জানতে পারি আমার ভিসা বাতিল। মনে হলো সব শেষ হয়ে গেছে — এখন কীভাবে সংসার চলবে, কেমন করে ঋণ শোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।"
এমন ঘটনা শুধু তাহের হোসেনের একার নয় — হঠাৎ ভিসা বাতিলের আতঙ্কে দিন কাটছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রায় ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিকের। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজারে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অনেকের কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে — ছুটিতে দেশে এসে অনেক প্রবাসী কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশে বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারছেন তাদের ভিসা কার্যকর নেই, তাহেরের মতো অনেকে আমিরাতের বিমানবন্দরে নেমে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় জানছেন তাদের ভিসা বাতিল হয়ে গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও অনেকের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে — ভিসা বাতিলের আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই তড়িঘড়ি করে কর্মস্থলে ফিরতে চাইছেন অনেক প্রবাসী কিন্তু সেই সুযোগ পাচ্ছেন না, এমন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একমুখী বিমান টিকিটের দাম প্রায় এক লাখ টাকায় পৌঁছে গেছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, "এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় — পাকিস্তান, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একই ধরনের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। ঠিক কী কারণে এটি হচ্ছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি — আশা করি খুব শিগগিরই এর কারণ জানতে পারব।" মন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া হয়েছে — পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফিরলে কূটনৈতিক চ্যানেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ২২ জুলাই থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে — ফিরতে চান এমন প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে এবং অনেকে অনলাইনে তাদের 'স্ট্যাটাস' যাচাই করে দেখেছেন তাদের ভিসা 'ক্যানসেল' দেখাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়ায় ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল হয়েছে তার কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ হয়নি এবং কেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।
প্রবাসী শওকত আলী মীরন যুগান্তরকে বলেন, "আগামী সপ্তাহে ছুটিতে বাংলাদেশে যাওয়ার কথা — সে অনুযায়ী আগেই বিমান টিকিট কেটে রেখেছি। কিন্তু এখন শুনছি দেশে গেলে নাকি ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে — কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। একদিকে ভিসা হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে কষ্টার্জিত টাকায় কেনা টিকিটও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা — গত ২ দিন ধরে দূতাবাসে যোগাযোগের চেষ্টা করছি কিন্তু কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছি না।" এ বিষয়ে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, "সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধানে দূতাবাস কাজ করছে — এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ প্রবাসীর আবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, এছাড়া আরও প্রায় ১,৪০০টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।"
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!