📌 ড্রপ সাইট নিউজ প্রতিবেদন — ইসরাইল ৪.৬৫ কোটি ডলারের গোপন এলএলএম পয়জনিং অভিযান চালাচ্ছে; ট্রাম্পের সাবেক প্রচার প্রধান ব্র্যাড পারস্কেলের ক্লক টাওয়ার এক্স চুক্তি; চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনি, পারপ্লেক্সিটি প্রভাবিত।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে এআই চ্যাটবটগুলোর উত্তর নিজেদের পক্ষে ঘোরাতে ৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের এক বিশাল গোপন ডিজিটাল অভিযান চালিয়েছে ইসরাইল — অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম 'ড্রপ সাইট নিউজ'-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রচার প্রধান ব্র্যাড পারস্কেল এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান 'ক্লক টাওয়ার এক্স' ইসরাইল সরকারের সাথে এই বিপুল অঙ্কের চুক্তিটি করেছেন — তাঁরা এক গুচ্ছ ওয়েবসাইট বানিয়ে চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনি ও পারপ্লেক্সিটির মতো জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর উত্তর নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার নীল নকশা এঁকেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম 'ড্রপ সাইট নিউজ'-এর প্রতিবেদন — ইসরাইল ৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের গোপন ডিজিটাল অভিযান চালিয়েছে।
- ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রচার প্রধান ব্র্যাড পারস্কেল ও তাঁর প্রতিষ্ঠান 'ক্লক টাওয়ার এক্স' এই চুক্তি করেছেন।
- কৌশল: 'এলএলএম পয়জনিং' (LLM Poisoning) — এআইয়ের ডেটাভাণ্ডারে বিষ ঢেলে দেওয়া; প্রযুক্তি বিশ্বে এই চতুর কৌশলের নাম।
- ১০টি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়েছে — অ্যালিভিয়া ডট অর্গ, ফ্যাক্টসিগন্যাল ডট অর্গ, প্যাক্সপয়েন্ট ডট অর্গ সহ।
- মূল কৌশল: সাধারণ মানুষ যেসব ওয়েবসাইট পড়বে না কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন ও এআই অ্যালগরিদম সেগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য উৎস হিসেবে স্ক্যান করে নেবে — সেগুলো তৈরি করা।
- 'চেক ফার্স্ট'-এর প্রধান নির্বাহী হার্ভে লেতোক্স জানিয়েছেন — এআই প্রশিক্ষণে 'কমন ক্রল' নামে বিশাল উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার হয়; জানুয়ারি-জুনে এই ওয়েবসাইটগুলোকে শত শত বার স্ক্যান করেছে কমন ক্রল।
- পরীক্ষায় দেখা গেছে পারপ্লেক্সিটি ও মাইক্রোসফটের কোপাইলট সামরিক সহযোগিতার উত্তরে ইসরাইলের তৈরি ওয়েবসাইটগুলোর অপতথ্য ব্যবহার করছে।
- গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত — যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন তলানিতে এমন সময়ে এই মগজধোলাই পথ বেছে নিয়েছে ইসরাইল।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বুধবার (২৯ জুলাই) জানিয়েছে, প্রযুক্তি বিশ্বে এই চতুর কৌশলকে বলা হয় 'এলএলএম পয়জনিং' বা এআইয়ের ডেটাভাণ্ডারে বিষ ঢেলে দেওয়া — অ্যালগরিদম যেভাবে কাজ করে তাতে এআই চ্যাটবটগুলো মানুষের মতো নিজস্ব মতামত তৈরি করে না, বরং ইন্টারনেটে থাকা লাখ লাখ নথি পড়ে উত্তর বানায়। অ্যালগরিদম হলো এআইয়ের কাজ করার নির্দিষ্ট ডিজিটাল নিয়মাবলী — ইসরাইলি অপতথ্য প্রচার অভিযানের মূল কৌশলটি ছিল এমন কিছু ওয়েবসাইট তৈরি করা, যেগুলো সাধারণ মানুষ খুব একটা পড়বে না — কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন এবং এআইয়ের তথ্য সংগ্রাহক ব্যবস্থা বা অ্যালগরিদম ঠিকই সেগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য উৎস হিসেবে স্ক্যান বা পাঠ করে নেবে।
এই অভিযানে 'অ্যালিভিয়া ডট অর্গ', 'ফ্যাক্টসিগন্যাল ডট অর্গ' এবং 'প্যাক্সপয়েন্ট ডট অর্গ'-এর মতো ১০টি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়েছে — এতে মার্কিন-ইসরাইল সামরিক সহযোগিতার পক্ষে যুক্তি সাজানো, গাজায় হত্যাকাণ্ড ও সামরিক অভিযানের সাফাই গাওয়া এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নস্যাৎ করার জন্য অজস্র নিবন্ধ লেখা হয়েছে। ডিজিটাল অপতথ্য প্রতিরোধকারী সংস্থা 'চেক ফার্স্ট'-এর প্রধান নির্বাহী হার্ভে লেতোক্স জানিয়েছেন, এআই প্রশিক্ষণে 'কমন ক্রল' নামে এক বিশাল উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করা হয় — চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে এই ওয়েবসাইটগুলোকে শত শত বার স্ক্যান করেছে কমন ক্রল — ফলে অসত্য ও পক্ষপাতদুষ্ট তথ্যগুলো সহজেই ঢুকে পড়েছে এআইয়ের মূল মেধা বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলে।
এরই মধ্যেই এর প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে — একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, পারপ্লেক্সিটি এবং মাইক্রোসফটের কোপাইলট সামরিক সহযোগিতার উত্তর দিতে গিয়ে ইসরাইলের বানিয়ে তোলা ওয়েবসাইটগুলোর অপতথ্য ব্যবহার করছে। গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন যখন তলানিতে — ঠিক তখনই 'ইসরাইল কি গণহত্যা চালাচ্ছে?' এমন স্পর্শকাতর প্রশ্নের উত্তরে নিরপেক্ষতার মুখোশ পরিয়ে নিজেদের বয়ান তুলে ধরতে এআই প্রযুক্তির এই মগজধোলাই পথ বেছে নিয়েছে ইসরাইল।
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!