📌 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্টসের বক্তব্যের জবাবে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন হামলায় ইরান কোনো সীমা মেনে চলবে না। ইরানের জনগণের ক্ষতির প্রতিশোধে বিধ্বংসী আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দেন তিনি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন হামলায় কোনো সীমা মেনে চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের জনগণের ক্ষতির প্রতিশোধে ভয়াবহ আঘাত হানার সম্ভাবনা তুলে ধরেন তিনি। ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি শনিবার (৩১ অক্টোবর) জানিয়েছে, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্টসের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন হামলায় ইরান ‘লাল রেখা’ মেনে চলবে না
- 📌 ইরানের জনগণের ক্ষতির প্রতিশোধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘ভয়াবহ আঘাত’ হানবে — অর্থনৈতিক ক্ষতির তুলনায় এটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ
- 📌 জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্টসের বক্তব্য: সামরিক উপায়ে সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়, কূটনৈতিক পথে সমাধান চাই
- 📌 ২০২৫ সালের জুনে শুরু হওয়া প্রথম দফা যুদ্ধে ১২ দিন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধে ৪০ দিন চলে
- 📌 ইরান হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ আরোপ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়
📰 বিস্তারিত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্টসের বক্তব্যের জবাবে বলেছেন, ইরানের জনগণের ক্ষতির প্রতিশোধে দেশটি যে আঘাত হানবে, তার তুলনায় ইউরোপের অর্থনৈতিক ক্ষতি কিছুই নয়। তিনি বলেন, ‘গত বছর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে বোমা হামলা শুরু করেছিল, তখন মের্টস তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তারা ইউরোপের নোংরা কাজটি করে দিচ্ছে।’
মের্টসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের কারণে ইউরোপের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ইউরোর বেশি খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই সংঘাতের কারণে ইউরোপের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ইউরোর বেশি খরচ হয়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব সংঘাতের অবসান ঘটানো আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্যও জরুরি।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, ‘লাল রেখা এখন অতীতের বিষয়’। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন হামলায় ইরান কোনো সীমা মেনে চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইরানের জনগণের ক্ষতির প্রতিশোধে বিধ্বংসী আঘাত হানবে বলে জানান তিনি।
২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম দফায় যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ১২ দিন ধরে চলে ওই যুদ্ধ। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় হামলা শুরু করে দেশ দুটি। ৪০ দিন পর এপ্রিলের শুরুতে ওই সংঘাত থামে। দুই দফা যুদ্ধেই ইরানের প্রতিরোধ এবং সফল পাল্টা অভিযান আগ্রাসনকারীদের যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করে।
ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। জুলাই মাসে ইরানে কয়েক দফা প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন। ১৭ জুন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেই এ পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান ঘটানো। এর জবাবে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে তেহরান।
"গত বছর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে বোমা হামলা শুরু করেছিল, তখন মের্টস তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তারা ইউরোপের নোংরা কাজটি করে দিচ্ছে। ইরানের জনগণের ক্ষতি করার সাহস দেখালে যে কাউকে ভয়াবহ আঘাত হানবে, তার তুলনায় এই অর্থনৈতিক ক্ষতি কিছুই নয়। লাল রেখা এখন অতীতের বিষয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, হরমুজ প্রণালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্বাস আরাগচি (ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), ফ্রিডরিখ মের্টস (জার্মান চ্যান্সেলর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ অক্টোবর, ১০ হাজার কোটি ইউরো, ১২ দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ৪০ দিন, ১৭ জুন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!