📌 কুমামোতোতে ৭.১ মাত্রা ভূমিকম্প — ১৩ নিহত, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। এইয়ন বিপণিবিতানে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে ২ নারী নিহত, ২০-৩০ নিখোঁজ। নিপ্পন পেপার চিমনি ধসে ৭ নিখোঁজ। ৩৬,০০০+ পরিবার বিদ্যুৎহীন, ৩৪°C তাপমাত্রা, ২,৬০,০০০ আশ্রয়কেন্দ্রে। হাসপাতালে ফিল্ড হাসপাতাল পরিস্থিতি।
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতো শহরের কাছে আঘাত হানা ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন — ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে চলছে জোর তৎপরতা। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, "এখনো অনেকে উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন — এটি মূলত সময়ের বিরুদ্ধে এক লড়াই।" ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতোর কাশিমা শহরের এইয়ন বিপণিবিতানে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে — গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ সন্দেহে ২০ বছর বয়সী দুই নারী নিহত।
🔴 মূল পয়েন্ত
- ভূমিকম্প: ৭.১ মাত্রা — কুমামোতো শহর থেকে প্রায় ২০ কিমি (১২ মাইল) দক্ষিণে উৎপত্তিস্থল; কুমামোতো মধ্য কিউশুর সবচেয়ে বড় শহর — প্রায় ৭ লাখ মানুষ।
- নিহত: অন্তত ১৩ জন — প্রাথমিকভাবে ৩ জন বলা হয়েছিল; বিস্ফোরণে ২০ বছর বয়সী দুই নারী নিহত।
- এইয়ন বিপণিবিতান: কাশিমা শহরে — প্রায় ২০০টি দোকান; বিস্ফোরণে এক পাশ পুরোপুরি উড়ে গেছে; ভোরে আটজনকে জীবিত উদ্ধার; মঙ্গলবার পর্যন্ত ২০-৩০ জন কর্মী নিখোঁজ।
- নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ: কারখানার চিমনি ধসে পড়ার পর ৭ জন নিখোঁজ, ৪ জন গুরুতর আহত।
- বিদ্যুৎহীন: ৩৬,০০০+ পরিবার এখনো বিদ্যুৎহীন — তাপমাত্রা ৩৪°C, হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি।
- আশ্রয়কেন্দ্র: এক দশক আগে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের শিকার এই অঞ্চলের প্রায় ২,৬০,০০০ বাসিন্দাকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ।
- হাসপাতাল: উকি শহরের হাসপাতালে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত — "ফিল্ড হাসপাতাল বা যুদ্ধক্ষেত্রের অস্থায়ী হাসপাতালের মতো"; আরেকটি হাসপাতাল নতুন রোগী ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ — ৮৬ রোগী চিকিৎসা দেওয়ার পর সক্ষমতা শেষ।
- দ্রুতগতির ট্রেন: ভূমিকম্পের সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত — রেল পরিচালনাকারী সংস্থা নিশ্চিত করেছে।
- সতর্কতা: আগামী এক সপ্তাহ আরও শক্তিশালী ভূকম্পন ও ভূমিধসের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ।
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতো শহরের কাছে আঘাত হানা ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন — সেখানে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে চলছে জোর তৎপরতা। বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, "এখনো অনেকে উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন — এটি মূলত সময়ের বিরুদ্ধে এক লড়াই। আমরা মাঠপর্যায়ে আমাদের সব ধরনের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছি, যাতে যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা যায়।" ভূমিকম্প আঘাত হানার পর প্রাথমিকভাবে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৩ বলে জানানো হয়েছিল — শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের আঘাতে পুরো কুমামোতো অঞ্চলে হাজার হাজার ঘরবাড়ির বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট।
ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতোর কাশিমা শহরের এইয়ন বিপণিবিতানে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে — এতে ২০ বছর বয়সী দুই নারী নিহত হন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর, গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দলগুলো ভবনের যে অংশ থেকে সাহায্যের জন্য আকুতি শোনা যাচ্ছে সেখানে বেশি নজর দিচ্ছে — ভোরে আংশিক ধসে পড়া বিপণিবিতান থেকে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। সরকারি প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানায়, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ওই বিপণিবিতানে ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী নিখোঁজ ছিলেন — এ ছাড়া নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়ার পর আরও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং এক সরকারি কর্মকর্তা জানান এ ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ — পরিস্থিতি এখন একটি ফিল্ড হাসপাতাল বা যুদ্ধক্ষেত্রের অস্থায়ী হাসপাতালের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক দশক আগে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের শিকার হওয়া এ অঞ্চলের প্রায় ২,৬০,০০০ বাসিন্দাকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন — ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মধ্য কিউশুর সবচেয়ে বড় এ শহরে প্রায় ৭ লাখ মানুষের বসবাস। ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়া এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের আগামী এক সপ্তাহ আরও শক্তিশালী ভূকম্পন ও ভূমিধসের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে — এমন পরিস্থিতিতে ৩৬,০০০-এর বেশি পরিবার এখনো বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে এবং তাপমাত্রা প্রায় ৩৪°C হওয়ায় গরমে মানুষের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি উকি শহরের একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে তাদের চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে — হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের প্রধান এনএইচকে-কে বলেন, "পরিস্থিতি এখন একটি ফিল্ড হাসপাতাল বা যুদ্ধক্ষেত্রের অস্থায়ী হাসপাতালের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।" শহরের আরেকটি হাসপাতাল নতুন রোগী ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে — ভূমিকম্পের পর গুরুতর আহত ৩ ব্যক্তিসহ মোট ৮৬ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালটির পক্ষে আর নতুন জরুরি রোগী সামলানো সম্ভব হচ্ছে না।
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!