📌 কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড মামলায় তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানায়, তুহিনের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় এবং মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটে। মরদেহ উদ্ধার ও সিসিটিভি বিশ্লেষণের পর আসামিদের শনাক্ত করা হয়
কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম শাহরিয়ারের হত্যাকাণ্ড মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামিদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিন আসামিকে রোববার বেলা তিনটার দিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং তারা স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুমিল্লায় অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড মামলায় তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং হত্যার দায় স্বীকার করেছেন
- 📌 আসামিদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে পুলিশ প্রধান আসামি ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে
- 📌 অপর দুজন আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫ ও ১৬ বছর বয়সী) এবং তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি
- 📌 অপ্রতিমের মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গলে তাকে হত্যা করা হয়
- 📌 সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্তে তুহিনকে শনাক্ত করা হয় এবং তার বাসায় খাটের বিছানার তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার করা হয়
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, আসামিদের রোববার বেলা তিনটার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে বিচারক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য মতে, অপ্রতিমের মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়, যার ফলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় তুহিনসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয় তার বাসায় খাটের বিছানার তোশকের নিচ থেকে।
অপ্রতিমের মরদেহ গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে পড়েন। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
"আসামিদের জবানবন্দিতে অপ্রতিমকে হত্যার দায় স্বীকার করা হয়েছে। এখন মামলার তদন্তে তাদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হবে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা, লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার, আবিদা সুলতানা মলির, মো. লুৎফর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ (অপ্রতিমের বয়স), ১৬৪ (ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা), ১৫ ও ১৬ (অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!