📌 পাবনার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর সরবরাহ টেন্ডারে বিরোধের জেরে যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রানীকে হুমকি দিয়েছেন। কর্মকর্তা কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন এবং নিরাপত্তাহীনতা দাবি করেছেন
পাবনার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিরোধের জেরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রানীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা কর্মস্থলে যাচ্ছেন না এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রানীকে টেন্ডার বাতিলের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগে যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু হুমকি দিয়েছেন।
- 📌 কর্মকর্তার দাপ্তরিক কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ৮০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার এমএসআর খাতের টেন্ডারে চারটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হলেও স্থানীয় নেতারা অনিয়ম দাবি করে চাপ সৃষ্টি করেছেন।
- 📌 ডা. সুপ্রভা রানী বলেছেন, ‘আমাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমি রাজি না হওয়ায় তাঁরা ভয়ভীতি দেখান।’
- 📌 সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু দাবি করেছেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তার যোগসাজশে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত ১০ সেপ্টেম্বর ই-জিপি প্রক্রিয়ায় সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর খাতের ছয়টি প্যাকেজে ৮০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। ২ নভেম্বর চারটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হলেও স্থানীয় নেতারা দরপত্রের শর্ত কঠিন হয়েছে বলে অভিযোগ করে চাপ সৃষ্টি করছেন।
ডা. সুপ্রভা রানী জানান, মঙ্গলবার কনফারেন্স রুমে সভায় ব্যস্ত থাকার সময় সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে আট থেকে দশজন ব্যক্তি তাঁর দাপ্তরিক কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেন। পরে তাঁরা কক্ষে প্রবেশ করে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে টেন্ডার বাতিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমি রাজি না হওয়ায় তাঁরা নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং অফিসের বাইরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এতে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ওয়াসিম খান বলেন, ‘যাঁরা টেন্ডার পাননি, তাঁরা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। আমি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা উল্টানো অবস্থায় দেখতে পাই। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ কর্মকর্তা আসেন।’
সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা শুধু অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার যোগসাজশে তাঁর স্বামীর মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্যই এসব করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছি।’
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সুজানগরে নিয়ম মেনেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে সম্প্রতি টেন্ডার না পেলে বিভিন্ন দপ্তরে এ ধরনের হেনস্তা ও হয়রানিমূলক আচরণের ঘটনা ঘটছে। এসব আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি কর্মকর্তাকে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে ফোন করে তাঁকে ডাকা হয়। সেখানে গিয়ে তাঁকে কোনো কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ জানানো হয়নি। তবে কর্মকর্তা সেখান থেকে চলে গেছেন। এখনো কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাননি।
"আমাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমি রাজি না হওয়ায় তাঁরা নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং অফিসের বাইরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাবনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. সুপ্রভা রানী, সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু, ডা. ওয়াসিম খান, আবুল কালাম আজাদ, মোজাফফর হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, ৩ নভেম্বর, ১০ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!