📌 ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের একটি জাল ব্যবসায়িক ষড়যন্ত্রে জড়িত ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা অনুমোদন। শ্রমিক কোহিনুর আক্তারের পরিচয়পত্র ও জাল ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে জাল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাত করা হয়
বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের একটি জাল ব্যবসায়িক ষড়যন্ত্রে জড়িত ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শ্রমিক কোহিনুর আক্তারের পরিচয়পত্র ও জাল ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে একটি কথিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাত**: ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে ইস্যু করা চেকের মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।
- 📌 **জাল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান**: "মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন" নামে একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়।
- 📌 **শ্রমিকের পরিচয়পত্রে জাল লাইসেন্স**: শ্রমিক কোহিনুর আক্তারের পরিচয়পত্র ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স অর্জন করা হয়।
- 📌 **১৪ জন অভিযুক্ত**: দুদকের অনুসন্ধানে ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে চসিকের কর্মকর্তা, সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং রেলওয়ের কর্মকর্তা।
- 📌 **অনিয়ম ও ভুয়া নথি**: দুদকের অনুসন্ধানে ভুয়া বিল তৈরি, নথি যাচাইয়ে অনিয়ম এবং ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অসংগতি পাওয়া গেছে।
📰 বিস্তারিত
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় "মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশনের" নামে খোলা হিসাবে জমা দেওয়া হয়। এরপর ২ জানুয়ারি ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে ৮০ লাখ টাকা এবং ৮ জানুয়ারি একই শাখা থেকে আরও ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ধানমন্ডির প্রধান শাখা থেকে ৫ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্যও দুদক পেয়েছে। অবশিষ্ট অর্থও পরবর্তী সময়ে উত্তোলন করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কথিত প্রতিষ্ঠানটির নামে ব্যাংক হিসাব খোলার সময় বার্ষিক লেনদেন দেখানো হয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অথচ প্রতিষ্ঠানটির কথিত মালিক হিসেবে ব্যবহৃত কোহিনুর আক্তার একজন শ্রমিক। তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তার পরিচয়পত্রের ছবি ও স্বাক্ষরের সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদনে থাকা ছবি ও স্বাক্ষরের অমিল পাওয়া যায়। কোহিনুর আক্তার দুদককে জানিয়েছেন, তিনি কখনো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে যাননি।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোহিনুর আক্তারের পরিচয়ে চসিকের ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে সরবরাহকারী শ্রেণিতে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করা হয়। আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি ও ছবি যুক্ত ছিল। অনুসন্ধানে লাইসেন্সে উল্লেখ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় নথি যাচাই না করে লাইসেন্স ইস্যু করার অভিযোগ রয়েছে চসিকের লাইসেন্স পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম মনজুর উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
দুদকের অনুসন্ধানে হিসাব খোলার নথিতে ছবি ও স্বাক্ষরের অসংগতি পাওয়া গেছে। ব্যাংকের তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার, রিলেশনশিপ ব্যবস্থাপক বিদেশ বড়ুয়া ও কর্মকর্তা মো. পারভেজের বিরুদ্ধে হিসাব খোলার সময় যথাযথ যাচাই না করার অভিযোগ রয়েছে। রেলওয়ের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায়ও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুদক। রেলওয়ের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা কার্যালয়ের তিন অডিটর পবন কুমার পালিত, মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে একই আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ‘আইবাস++’ ব্যবস্থায় ভুয়া বিল ও টোকেনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করেন।
"আমি কখনো চেনেনি সোহাগ আলীকে এবং ওই ব্যক্তি আমার প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কর্মী নন।" — নাবিল আহসান, কথিত প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, ঢাকা (ধানমন্ডি, মতিঝিল, আগ্রাবাদ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কোহিনুর আক্তার, নাবিল আহসান, মুহাম্মদ ইকবাল, এম মনজুর উদ্দিন চৌধুরী, মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা (আত্মসাত), ১৪ জন অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!