📌 জুলাই আন্দোলনের সময় আহত হওয়ার মিথ্যা অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৮৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পুলিশের তদন্তে মামলার এজাহারের চিকিৎসা কাগজপত্র জাল প্রমাণিত হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে
মোহাম্মদপুর থানার পুলিশের তদন্তে শেখ হাসিনাসহ ৮৪ আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় আহত হওয়ার মিথ্যা অভিযোগে নূর হোসেন নামের এক যুবক মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে পুলিশের তদন্তে তার দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং চিকিৎসা কাগজপত্র জাল বলে উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে
- 📌 ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলা — শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ
- 📌 জাল চিকিৎসা কাগজপত্র এবং হাসপাতালের রেকর্ডে নূর হোসেনের নাম না পাওয়া
- 📌 ৮ জন আসামিকে আগে অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকা সত্ত্বেও এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল
- 📌 ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণআন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আহত হওয়ার অভিযোগে নূর হোসেন মামলা দায়ের করেন। তার দাবি ছিল, তার শরীরে নয়টি গুলি লেগে আহত হওয়ার পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপের শিকার হন। তবে পুলিশের তদন্তে তার আহত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার দাবির সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্রও জাল বলে উঠে এসেছে। হাসপাতালের মূল রেকর্ডে নূর হোসেনের নাম পাওয়া যায়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নূর হোসেনের দাখিল করা ব্যবস্থাপত্রটি কম্পিউটারে টাইপ করা ছিল, যা সাধারণত হাসপাতালের চিকিৎসকরা হাতে লিখে দেন। এছাড়া, ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখিত ক্যাশ মেমো নম্বরটি আব্দুস সাত্তার নামের একজন রোগীর নামে বরাদ্দ ছিল। পেশেন্ট আইডি নম্বরটি ছিল জুয়েল নামের অন্য একজন রোগীর। এছাড়া, সরকারের আনুষ্ঠানিক গেজেটে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের তালিকায় নূর হোসেনের নামও পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উক্যমং রাখাইন জানান, বাদী বাস্তবে আহত না হওয়ায় মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরও বলেন, মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন সময়ে অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা আট আসামিকে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল। তবে এ মামলার ভিত্তিতে নতুন করে কাউকে সরাসরি আটক করা হয়নি।
"মামলার এজাহারের সঙ্গে নূর হোসেনের দাখিল করা চিকিৎসা কাগজপত্র জাল। হাসপাতালের মূল রেকর্ডে তার নাম পাওয়া যায়নি।"
মামলার আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, সাবেক সহসভাপতি সলিম উল্লাহ পাটোয়ারী, মিলন হোসেন, মহিলা লীগ নেত্রী ইশরাত জাহান তামান্না ও স্বপ্না খন্দকার।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোহাম্মদপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, নূর হোসেন, উপপরিদর্শক (এসআই) উক্যমং রাখাইন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪ জন আসামি, ৭৬ জনের নাম উল্লেখিত, ৪ আগস্ট ২০২৪, ১ ডিসেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!