📌 পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার এক তরুণকে রেললাইনে ফেলে দেওয়া কিশোরীর হত্যা ও ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪) স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও পেয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে
পঞ্চগড়ের একটি নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রেললাইনে ফেলে দেওয়া কিশোরীর হত্যা ও ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪) নামের তরুণকে এই রায়ের শিকার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ ফজলুল বারী রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি খলিলুর রহমান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার তরুণ **রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪)**-কে রেললাইনে ফেলে দেওয়া **১৭ বছর বয়সী কিশোরীর হত্যা ও ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড** দিয়েছে আদালত।
- 📌 রায়ের সময় **এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড**ও প্রদান করা হয়েছে।
- 📌 **২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি** রেললাইনে খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার করা হয়, যা **ঠাকুরগাঁও জেলার নিখোঁজ কিশোরীর** বলে শনাক্ত হয়।
- 📌 **৮ মার্চ** আটোয়ারী থানায় রিফাতের স্মার্টফোনে **নগ্ন ছবি ও আপত্তিকর ভিডিও** পাওয়া যায়, যা তার বিরুদ্ধে সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- 📌 **১৩ জানুয়ারি** ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী ট্রেনে রিফাত **কিশোরীকে ধর্ষণ** করে **ইট দিয়ে মাথায় আঘাত** করে হত্যা করেন।
- 📌 **১৫ আগস্ট** আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর **১৯ জনের সাক্ষ্য** গ্রহণের পরে রায় ঘোষণা করা হয়।
📰 বিস্তারিত
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি সকালে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কিসমত রেলস্টেশনের পাশে মালিগাঁও রেলঘুমটি এলাকায় রেলপথের ওপর থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে লাশটি ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার **১৭ বছর বয়সী নিখোঁজ কিশোরীর** বলে শনাক্ত হয় তার স্বজনদের মাধ্যমে।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। **৮ মার্চ** আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কিসমত রেলগেটের সংলগ্ন হাজী শাহার আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চুরি হওয়া একটি ইজিবাইকসহ চুরির অভিযোগে রিফাত বিন সাজ্জাদকে আটোয়ারী থানায় তুলে দেয় স্থানীয় লোকজন। পুলিশ তার স্মার্টফোন থেকে **নগ্ন ছবি ও আপত্তিকর ভিডিও** উদ্ধার করে, যা তার বিরুদ্ধে সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত স্বীকার করেন যে, **১৩ জানুয়ারি** ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে দিনাজপুর থেকে পঞ্চগড়ের দিকে আসছিলেন তিনি। ট্রেনে অজ্ঞাতনামা কিশোরীকে দেখে তার সঙ্গে কথা বলেন। পরে রাত ৯টার দিকে পঞ্চগড়ের কিসমত রেলস্টেশনে মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেন থেকে নামেন। তিনি মেয়েটিকে **ধর্ষণ** করে **ইট দিয়ে মাথায় আঘাত** করে হত্যা করেন। ভোরে লাশটি রেললাইনে ফেলে চলে যান। পরে রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে লাশটি কাটা পড়ে খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায়।
"১৪ জানুয়ারি রেললাইনের ওপর যে কিশোরীর লাশ গিয়েছিল তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছিলেন আমি। পরে লাশটি রেললাইনে ফেলে দিয়েছি।"
আটোয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহুরুল ইসলাম **১৫ আগস্ট** রিফাত বিন সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর মোট **১৯ জনের সাক্ষ্য** গ্রহণের পর বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় রিফাত **কাঠগড়ায় উপস্থিত** ছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পঞ্চগড় (বোদা উপজেলা, আটোয়ারী উপজেলা, রাধানগর ইউনিয়ন, কিসমত রেলস্টেশন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪), মুহাম্মদ ফজলুল বারী (বিচারক), খলিলুর রহমান (সরকারি কৌঁসুলি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ বছর (রিফাতের বয়স), ১৭ বছর (কিশোরীর বয়স), ১৪ জানুয়ারি (ঘটনার তারিখ), ৮ মার্চ (ইজিবাইক চুরির তারিখ), ১৩ জানুয়ারি (ধর্ষণ ও হত্যার তারিখ), ৯ টা (রাত), ১৫ আগস্ট (অভিযোগপত্র দাখিল), ১৯ জন (সাক্ষ্যদাতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!