📌 ঢাকার নিউগিনি প্রকল্পে ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ১১ জনের মধ্যে ৮ জন জামিনে মুক্ত হলেও সমন্বয়ক হিসেবে চিহ্নিত যুবরাজকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। হামলায় জড়িত ৯ জনেরও গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে। হামলার পিছনে অর্থের বিনিময়ে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে
ঢাকার নিউগিনি প্রকল্পে ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় সমন্বয়ক হিসেবে চিহ্নিত যুবরাজকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এই হামলার অন্যতম প্রধান দায়িত্বে থাকা যুবরাজের অবস্থান অজানা। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিরপুরের দুটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য নিয়ে এই হামলার সমন্বয় করেছিলেন ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার’ ইব্রাহিমের বাহিনীর সদস্য যুবরাজ। তিনি ইব্রাহিমের বাহিনীর হয়ে মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নিউগিনি প্রকল্পে ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ১১ জনের মধ্যে ৮ জন জামিনে মুক্ত হলেও সমন্বয়ক যুবরাজকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
- 📌 ১৩ জনের সমন্বয়ে ইসিবি চত্বরে একটি খাবারের দোকানে বসে হামলার পরিকল্পনা করা হয়, যেখানে শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন।
- 📌 হামলায় জড়িত ৯ জনের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, তবে তাদের মধ্যে ১১ জনের মধ্যে ৮ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
- 📌 হামলার মূল কারণ ছিল নিউগিনি প্রকল্পের মালিকের সাথে জমি বিরোধের কারণে ফটক ভাঙা ও চলাচলের রাস্তা বের করার দাবি।
- 📌 সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওও লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার হয়, তিনি আর বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মতে, ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এই হামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওও ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। ঘটনার রাতেই সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে হামলার বিবরণ দেওয়া হয়। এরপর ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
তদন্তে জানা যায়, হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বসে ১৩ জন হামলার বিষয়ে পরিকল্পনা করেন। এ সময় মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার জন্য এক কোটি টাকার চুক্তি করেন। পরে ইব্রাহিম লোকজন সংগ্রহ করে হামলার দায়িত্ব দেন যুবরাজকে। হামলায় শতাধিক ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হামলায় জড়িত ১১ জনের মধ্যে ৮ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এছাড়া হামলায় জড়িত আরও ৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
"হামলায় শতাধিক ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
হামলার পিছনে অর্থের বিনিময়ে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম টাকার বিনিময়ে লোকজন পাঠিয়ে হামলা করান। এতে মিরপুরের মামুন বাহিনীর সদস্যদেরও যুক্ত করা হয়েছিল। হামলার পরিকল্পনা করার সময় শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন। শাহরিয়ার বর্তমানে জামিনে আছেন।
হামলার মূল কারণ ছিল নিউগিনি প্রকল্পের মালিকের সাথে জমি বিরোধের কারণে ফটক ভাঙা ও চলাচলের রাস্তা বের করার দাবি। তদন্তে জানা যায়, ৩৫ কাঠার জমিতে মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীরও জমি রয়েছে। তিনি এ জমিতে কন্ডোমিনিয়াম তৈরির চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু জমি থেকে চলাচলের কোনো রাস্তা না থাকায় সেখানে আবাসিক ভবন করার কোনো লাভ নেই। তাই নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মূল ফটক ভেঙে চলাচলের রাস্তা বের করার পরিকল্পনা করা হয়।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটি এখনো মেরামত করা হয়নি। জিনিসপত্র মেঝেতে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। ৩১ অক্টোবর ঢাকার মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে একটি সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীতে সালমান বলেন, তিনি আর বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবেন না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, নিউগিনি প্রকল্প (ইসিবি চত্বরে), মিরপুর, মহাখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: যুবরাজ, শাহরিয়ার মাহমুদ, সালমান মুক্তাদির, মো. ইব্রাহিম, মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, জেহাদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ জন পরিকল্পনা, ১১ জন গ্রেপ্তার (৮ জন জামিনে মুক্ত), ৯ জন শনাক্ত, ৩৫ কাঠা জমি, ১ কোটি টাকা চুক্তি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!