📌 কেরানীগঞ্জে ১১ বছর বয়সী একটি শিশুর বাল্যবিবাহে বর, মেয়ের বাবা ও ঘটককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ছেলের বোনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কাজীকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে
কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ১১ বছর বয়সী একটি শিশুর বাল্যবিবাহে বর, মেয়ের বাবা ও ঘটকদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে বর ফরহাদ (১৯)কে এক মাসের কারাদণ্ড, মেয়ের বাবা আজিজুল হক (৪০) ও ঘটক হাসান (৪৫)কে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ছেলের বোনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কাজীকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের রামেরকান্দা ও কোলচর গ্রামে ১১ বছর বয়সী শিশুর বাল্যবিবাহে বর, মেয়ের বাবা ও ঘটকদের কারাদণ্ড
- 📌 বর ফরহাদ (১৯)কে এক মাসের কারাদণ্ড, মেয়ের বাবা আজিজুল হক (৪০) ও ঘটক হাসান (৪৫)কে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড
- 📌 ছেলের বোনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, কাজীকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে
- 📌 বিয়েতে কোনো কাগজে স্বাক্ষর ছিল না, মেয়ের বাবা আজিজুল হক অভিযোগ করেছেন জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়েছে
- 📌 শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার একজন শিক্ষকের মেয়ে বিয়ে করা হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের রামেরকান্দা ও কোলচর গ্রামে একটি বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে রামেরকান্দা গ্রামের ভাড়াটে ১১ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে কোলচর গ্রামের ভাড়াটে ফরহাদের কোর্ট ম্যারেজ হয়। বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে।
মেয়ের বাবা আজিজুল হক (৪০) অভিযোগ করেছেন, তার মেয়েকে ছেলের পরিবারের লোকজন জোর করে বিয়ে করেছে। তিনি বলেছেন, “আমরা বিচার চাইতে এসে আসামি হলাম। আমাদের পরিবারের কোনো সম্মতি ছিল না এবং কোনো কাগজে আমরা স্বাক্ষরও করেনি।” অন্যদিকে, ছেলের মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “দুই পক্ষের সম্মতিতেই বিয়ে হয়েছে। তারা বড় মেয়েকে দেখতে গিয়েছিলেন। পরে মেয়ের পরিবারের আগ্রহেই ছোট মেয়ের সঙ্গে তার ছেলের বিয়ে দেওয়া হয়।”
ছেলের মায়ের আরও অভিযোগ, তৃতীয় পক্ষের একজন তাদের কাছে দুই বোতল মদ চেয়েছিলেন। সেই আবদার পূরণ করতে না পারায় পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়েছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওমর ফারুক বলেছেন, “বাল্যবিবাহ বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বিষয়টি জানতে পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। বাল্যবিবাহ আয়োজন ও সহযোগিতার দায়ে বর, মেয়ের বাবা ও ঘটককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কাজীকেও আটকের চেষ্টা চলছে। পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগী শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গ্রেপ্তার চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে আগে থেকেই তাঁর যোগাযোগ ছিল। সেই সুবাদে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা আছে বলে ওই শিক্ষককে নওগাঁ শহরে নিজের বাসায় ডেকে নেন মিলি।
"আমরা বিচার চাইতে এসে আসামি হলাম। আমাদের পরিবারের কোনো সম্মতি ছিল না এবং কোনো কাগজে আমরা স্বাক্ষরও করেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কেরানীগঞ্জ উপজেলা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বর ফরহাদ (১৯), মেয়ের বাবা আজিজুল হক (৪০), ঘটক হাসান (৪৫), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওমর ফারুক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ বছর (শিশুর বয়স), ৫ হাজার টাকা (জরিমানা), ১৫ দিন (কারাদণ্ড), ১ মাস (কারাদণ্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!