📌 চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা থেকে ৬৩ কোটি টাকা জাল বাই-মুরাবাহা ঋণ আত্মসাৎের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। মামলায় জাল কাগজপত্র তৈরি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে
চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা থেকে জাল বাই-মুরাবাহা ঋণ প্রক্রিয়ায় ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আজ মঙ্গলবার দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি চট্টগ্রামের সমন্বিত কার্যালয়ে দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংক থেকে ঋণ আত্মসাৎ করা হয়, পরে অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তরিত করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা থেকে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা জাল বাই-মুরাবাহা ঋণ আত্মসাৎের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে
- 📌 মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইউসিবি পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান
- 📌 মামলায় আরামিট গ্রুপের কর্মচারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে জাল সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি ক্লাসিক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী
- 📌 ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার ১০ কর্মকর্তাও আসামি হিসেবে উল্লেখিত, তাদের বিরুদ্ধে ঋণ অনুমোদন ও অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে
- 📌 মামলায় দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ১০টি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট শাখায় আরামিট সিমেন্টের নামে একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১৫ মে এই হিসাব জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তরিত করা হয়। ওই বছরের ১৫ অক্টোবর আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ৫০০ কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন ঋণের আবেদন করেন। ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির ৫১তম সভায় ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়, যা পরবর্তীতে ব্যাংকের নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ৫৪টি বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে মোট ২০৫ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের এজিএম (হিসাব) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী হিসেবে দেখিয়ে ক্লাসিক ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। এই প্রতিষ্ঠানটির নামে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং ঋণ পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করা হয়। বাস্তবে কোনো পণ্য সরবরাহ না করেই জাল ও মিথ্যা তথ্যসংবলিত কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
দুদকের অভিযোগ, বাই-মুরাবাহা ডিল অনুমোদন করিয়ে ঋণের অর্থ উত্তোলন করা হয় এবং পরে ওই অর্থ আরামিট গ্রুপের কর্মচারীদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তরিত করা হয়। এতে অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং (অর্থ পাচার) করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছে আরামিট সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, প্রতিষ্ঠানটির এজিএম একেএম মারুফ, আরামিট গ্রুপের কর্মচারী ও ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার ১০ কর্মকর্তা।
"ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে পণ্য কেনাবেচার জাল কাগজপত্র তৈরি করা হয়। পরে কোনো পণ্য সরবরাহ না করেই ব্যাংক থেকে ঋণের অর্থ তুলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, রুকমীলা জামানসহ ১৫ আসামি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ, ১৫ আসামি, ২৭টি জাল ডিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!