📌 চট্টগ্রামের খুলশীতে সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে এবং ২০ দিনের মধ্যে রিমান্ড প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই বিদেশিদের বাংলাদেশে আনা ও কোকেন লেনদেনের সাথে জড়িত একজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে
চট্টগ্রামের খুলশীতে সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এই অভিযানে পুলিশের তদন্তে কোকেন লেনদেনের সাথে জড়িত একজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে এবং ২০ দিনের মধ্যে রিমান্ড প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের খুলশী থানায় ৬৩ বিদেশি নাগরিককে সাইবার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের মধ্যে রয়েছে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক
- 📌 আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে এবং ২০ দিনের মধ্যে রিমান্ড প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়
- 📌 অভিযানে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়
- 📌 পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই বিদেশিদের বাংলাদেশে আনা ও কোকেন লেনদেনের সাথে জড়িত একজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে
- 📌 ৬৩ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন, তারা জুন মাসে মহসীন নামের একজন বাংলাদেশির মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছিলেন
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালতে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশের আবেদন অনুযায়ী ৬৩ বিদেশি নাগরিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, গত শুক্রবার এই ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযানটি শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে। সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এই ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, এসব বিদেশি নাগরিক অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের পেছনে কোকেন লেনদেনের একটি ঘটনা রয়েছে। শনিবার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মো. মহসীন নামে একজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি এই বিদেশিদের বাংলাদেশে আনা ও তাদের আশ্রয় প্রদানের দায়িত্বে ছিলেন। মহসীনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই অভিযান শুরু হয়। পুলিশ জানায়, মহসীন কোকেনের বিনিময়ে বিদেশিদের বাংলাদেশে আনা শুরু করেছিলেন।
৬৩ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন, তারা জুন মাসে মহসীন নামের একজন বাংলাদেশির মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছিলেন। প্রথমে ঢাকায় দুই দিন অবস্থান করার পর তারা চট্টগ্রামে চলে আসেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য, সাইবার অপরাধে সম্পৃক্ততা এবং মহসীনসহ অন্য সহযোগীদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
"৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসীনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি তাঁদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া করে দিয়েছিলেন। বিদেশিদের পাসপোর্টও তাঁর কাছে জমা ছিল।"
পুলিশের দাবি, মহসীনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরেই খুলশীতে অবস্থান করা ওই ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কোকেনের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই অভিযান শুরু হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কখনো মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে, কখনো তদন্তের কথা বলে এবং আবার কখনো থানায় আটকে রেখে টাকা আদায় করেন মহসীন। তাঁর এসব কর্মকাণ্ডে সেবাপ্রার্থীরা অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এসআই জিল্লুর রহমান দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের খুলশী, কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মহিদুল ইসলামের, মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী, মো. মহসীন, আব্দুর রহিম, এসআই জিল্লুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩ (বিদেশি নাগরিক), ১৩৪ (মোবাইল ফোন), ৫৭ (ল্যাপটপ), ১১৮ (গ্রাম কোকেন), ২০ (দিনের রিমান্ড প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!