📌 নেত্রকোনা জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েলকে ফোনে অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে আক্রান্ত হন। সাংবাদিক ধান সংগ্রহে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ফোনে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেন। অনিয়মের কারণে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং নিয়ন্ত্রককে বদলি করা হয়েছে
নেত্রকোনা জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েলকে ফোনে অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে আক্রান্ত হন। সাংবাদিকটি ১৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ধান সংগ্রহে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরলে নিয়ন্ত্রক ক্ষিপ্ত হয়ে ফোনে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেন। এই ঘটনার পর সাংবাদিক খাদ্য অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েলের মোবাইল ফোনে কল করে বদলি হওয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং পরে ফোন কেটে দেন।
- 📌 সাংবাদিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে অনিয়মের বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তে উঠে এসেছে।
- 📌 অনিয়মের কারণে বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে ৩১ আগস্ট বরখাস্ত করা হয় এবং খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে ৯ সেপ্টেম্বর বদলি করে ঢাকায় সংযুক্ত করা হয়।
- 📌 তদন্তে একই কৃষকের নামে একাধিকবার ধান কেনা, অস্তিত্বহীন বা ‘গায়েবি’ কৃষকের নামে ধান সংগ্রহ এবং কাগজপত্রে ধান কেনাকাটার তথ্য পাওয়া যায়।
- 📌 সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েল জানান, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। খাদ্য অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
📰 বিস্তারিত
দৈনিক আজকের পত্রিকার নেত্রকোনা প্রতিনিধি সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েলের মোবাইল ফোনে কল করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এই ঘটনা ঘটে। সাংবাদিক জানান, তিনি দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে অনিয়মের বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। প্রতিবেদনে বদলি হওয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সাংবাদিক বলেন, ‘বিরিশিরি খাদ্যগুদামে বেনামি ও গায়েবি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তেই উঠে এসেছে। অনিয়মের কারণে গুদাম কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রককে বদলি করা হয়েছে। আমি সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করেছি। এরপরও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ফোন করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং পরে ফোন কেটে দেন।’
তদন্তে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে। তদন্তে একই কৃষকের নামে একাধিকবার ধান কেনা, অস্তিত্বহীন বা ‘গায়েবি’ কৃষকের নামে ধান সংগ্রহ এবং কাগজপত্রে ধান কেনাকাটার তথ্য পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের কারণে গত ৩১ আগস্ট বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে নেত্রকোনা থেকে বদলি করে ঢাকায় সংযুক্ত করা হয়।
সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েলের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পরই ওই প্রতিবেদকের সঙ্গে মোয়েতাছেমুর রহমানের ফোনালাপের ঘটনা ঘটে। এদিকে, মোয়েতাছেমুর রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি সরকারি প্রকল্পের চাল অধীনস্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাণিজ্য করার অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
"বেনামি ও গায়েবি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তেই উঠে এসেছে। অনিয়মের কারণে গুদাম কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রককে বদলি করা হয়েছে। আমি সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করেছি। এরপরও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ফোন করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং পরে ফোন কেটে দেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনা জেলা, দুর্গাপুর উপজেলা, বিরিশিরি খাদ্যগুদাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েল, জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান, কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ সেপ্টেম্বর, ৩১ আগস্ট, ৯ সেপ্টেম্বর, ১৩ সেপ্টেম্বর, ৪২ বছর (লালা প্রামাণিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!