📌 হাইকোর্ট বিয়ের ফরমে আগের বিয়ে, সন্তান ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যুক্ত না করলে ফরমটি আইনত অকার্যকর ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছে। আইনজীবী ইশরাত হাসানের রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ এই রুল দেন। আইন মন্ত্রণালয় ও নিবন্ধন অধিদপ্তরকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিয়ের ফরমে বর-কনের আগের বিয়ে, বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য উল্লেখ না করলে ফরমটি আইনত অকার্যকর ঘোষণা করার রুল দিয়েছে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই রুল দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাইকোর্টের রুল: বিয়ের ফরমে আগের বিয়ে, বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যুক্ত না করলে ফরম আইনত অকার্যকর ঘোষণা করা হবে
- 📌 রিট আবেদন: আইনজীবী ইশরাত হাসান ২৫ আগস্ট রিট দেন, বর্তমান ফরমে (১৬০১ বা 'ফরম ঘ') এই তথ্য যুক্ত না করার জন্য
- 📌 আইনজীবীদের দাবি: বর্তমান ফরমে আগের বিয়ে, তালাক, সন্তান ও ভরণপোষণের তথ্য উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা নেই, যা প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি করছে
- 📌 সচিব ও মহাপরিদর্শককে নির্দেশ: চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে
📰 বিস্তারিত
বিয়ের ক্ষেত্রে বর-কনের আগের বিয়ে, বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে হাইকোর্টের রুলের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ এই রুল দেন। আইনজীবী ইশরাত হাসানের রিট আবেদনের শুনানিতে আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও তানজিলা রহমান বর-কনের পক্ষে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
রুলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান ফরম নম্বর ১৬০১ বা 'ফরম ঘ'-এ বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী-স্ত্রী, বিয়ে-তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান ও আগের সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায়দায়িত্বের তথ্য উল্লেখ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এতে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তির স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আইনজীবী ইশরাত হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান ফরমে বরের বিদ্যমান স্ত্রী এবং সালিসি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হলেও আগের বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ে সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এসব তথ্য গোপন করে পরবর্তী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে।
"বর্তমান ফরমে আগের বিয়ে, তালাক, সন্তান ও ভরণপোষণের তথ্য উল্লেখ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এতে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তির অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারপতি আহমেদ সোহেল, বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ, আইনজীবী ইশরাত হাসান, আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ (আগস্ট), ৪ (সপ্তাহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!