📌 নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমনকে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের রিফিলের নামে প্রতারণা ও নকল স্টিকার লাগিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমনকে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের রিফিলের নামে প্রতারণা ও নকল স্টিকার লাগিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে কক্সবাজারের টেকনাফে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা **কামরুজ্জামান সুমন**কে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের রিফিলের নামে প্রতারণা ও নকল স্টিকার লাগিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে বদলি করা হয়েছে।
- 📌 **ময়মনসিংহের ‘দ্য সেফ মার্ট’**-এর নকল স্টিকার লাগিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ফায়ার এক্সটিংগুইশার রিফিলের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
- 📌 **পাঁচ শতাধিক ফায়ার এক্সটিংগুইশার** মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীতে নকল স্টিকার লাগিয়ে রিফিলের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে উঠেছে।
- 📌 **মোহনগঞ্জ পৌর শহরের শাহজালাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মাহবুব আলম সেলিম** অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিয়েছেন।
- 📌 **কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে আগে মাদক সেবন ও সরকারি মালামাল বিক্রির অভিযোগ**ও ছিল। ২০২১ সালে রংপুরে ফেনসিডিল সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
- 📌 **বিজিবি মেহেরপুরের শেওড়াতলা মাঠ থেকে ১৬ বোতল ফেনসিডিল, ২ হাজার ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট ও ৩০ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার** করেছে। উদ্ধারকৃত মালামালের মূল্য ৬ লাখ ৮ হাজার ৫০ টাকা।
📰 বিস্তারিত
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার **কামরুজ্জামান সুমন**কে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের রিফিলের নামে প্রতারণার অভিযোগে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করা ফায়ার এক্সটিংগুইশারের ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার পরিবর্তন না করেই পরিষ্কার করা হতো। পরে **ময়মনসিংহের ‘দ্য সেফ মার্ট’**-এর নকল স্টিকার লাগিয়ে রিফিল ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা হতো। কোনো কোনো যন্ত্রে রিফিলকারীর স্বাক্ষরও পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার ওপর আস্থা রেখেই তারা যন্ত্রগুলো রিফিলের জন্য দিতেন। প্রতিটি যন্ত্রের বিপরীতে **১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা** নেওয়া হলেও কোনো ভাউচার দেওয়া হতো না। ফলে যন্ত্রের ভেতরের রাসায়নিক আদৌ পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা তারা জানতে পারতেন না। স্থানীয় একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠান থেকে ‘দ্য সেফ মার্ট’-এর নকল স্টিকার ছাপানো হতো। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফায়ার এক্সটিংগুইশার সংগ্রহ করে রিফিলের নামে টাকা নেওয়ার পর সেগুলোতে ওই স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হতো।
মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে **পাঁচ শতাধিক ফায়ার এক্সটিংগুইশার** রয়েছে বলে জানা গেছে। মোহনগঞ্জ পৌর শহরের শাহজালাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক **মাহবুব আলম সেলিম** বলেন, ‘গতকাল নেত্রকোনা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে তদন্তে এসেছিলেন। তিনি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা তাঁকে প্রকৃত ঘটনা জানিয়েছি।’
নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক **মো. জাকির হোসেন** বলেন, ‘গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেছি। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমনকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি গুরুতর হওয়ায় বিস্তারিত তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য জেলার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটিটি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
“গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেছি। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমনকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়।” — **মো. জাকির হোসেন**, নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনা, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার টেকনাফ, রংপুর, মেহেরপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরুজ্জামান সুমন, মাহবুব আলম সেলিম, মো. জাকির হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ জানুয়ারি ২০২৪, ১ হাজার-১ হাজার ৫০০ টাকা, ১৬ বোতল ফেনসিডিল, ২ হাজার ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৩০ প্যাকেট পাতার বিড়ি, ৬ লাখ ৮ হাজার ৫০ টাকা, ৫০০+ ফায়ার এক্সটিংগুইশার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!