📌 স্বাধীনতার ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ আমলের সিলেট-আখাউড়া রেলপথে কোনো উন্নয়ন হয়নি। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ডাবল লাইন করার দাবি পূরণ না হলেও সরকার ডুয়েলগেজ প্রকল্পে উদ্যোগ নিচ্ছে। ২৩৯ কিলোমিটার রেললাইনে নাট-বল্টু ও সেতুর দুর্বলতা ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে
স্বাধীনতার ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ আমলের সিলেট-আখাউড়া রেলপথে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। শতবর্ষীয় এই রেললাইন এখনও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, যেখানে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাব এবং সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সিলেট-আখাউড়া রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার হলেও সরকার ডুয়েলগেজ প্রকল্পের মাধ্যমে এই রেলপথে পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিটিশ আমলে ১৯১২-১৯১৫ সালে নির্মিত সিলেট-আখাউড়া রেলপথে এখনও কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া নেই — ২৩৯ কিলোমিটার লাইনে নাট-বল্টু, ফিশপ্লেট ও ক্লিপসহ যন্ত্রাংশের অভাব রয়েছে।
- 📌 এলাকাবাসীর দাবি সিলেট-আখাউড়া রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার হলেও সরকার ডুয়েলগেজ প্রকল্পে উদ্যোগ নিচ্ছে, যেখানে একসঙ্গে দুটি ট্রেন চলতে পারবে।
- 📌 ব্রিটিশ আমলের সেতুগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
- 📌 সিলেট থেকে ঢাকায় যাতায়াতের সময় বর্তমানে প্রায় ৮ ঘণ্টা লাগে, ডাবল লাইন হলে সময় কমে যেতে পারে।
- 📌 বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চায়নার সঙ্গে ডুয়েলগেজ প্রকল্পের জন্য আলোচনা চলছে।
📰 বিস্তারিত
স্বাধীনতার ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে ব্রিটিশরা সিলেট-আখাউড়া রেলপথ নির্মাণ করেছিল। সেই সময় পণ্য পরিবহনের জন্য এই রেলপথ তৈরি করা হয়েছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং সিলেট অঞ্চলে ট্রেনযাত্রা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু শতবর্ষীয় এই রেলপথে এখনও কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি সিলেট-আখাউড়া রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার হলেও, বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ২৩৯ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাব রয়েছে। নাট-বল্টু, ফিশপ্লেট ও ক্লিপসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের অভাব এবং মাঝেমধ্যে চুরির অভিযোগ রয়েছে। অনেক জায়গায় বল্টুর বদলে সুতো দিয়ে রেললাইন বাঁধা হয়েছে। এছাড়াও, শতবর্ষীয় সেতুগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। একমাত্র লাইনের কারণে রেল ক্রসিংয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং পাহাড়ি এলাকায় ট্রেন চলতে দীর্ঘ সময় লাগে।
এলাকাবাসীর দাবি সিলেট-আখাউড়া রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার হলেও, সরকার ডুয়েলগেজ প্রকল্পের মাধ্যমে এই রেলপথে পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একসঙ্গে দুটি ট্রেন চলতে পারবে এবং নতুন ট্রেনগুলো দ্রুত গতিতে চলতে পারবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চায়নার সঙ্গে ডুয়েলগেজ প্রকল্পের জন্য আলোচনা চলছে।
শমশেরনগর স্টেশনের বাসিন্দা গিলমান আহমেদ বলেন, ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় যাতায়াতের সময় ট্রেনের দুর্ভোগের কারণে অনেক ব্যবসায়ী বাসে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, “কোনো কারণে ছোট দুর্ঘটনা হলেও একসঙ্গে অনেকগুলো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়। এসব সমস্যা সমাধানের একটি মাত্র রাস্তা হলো সিলেট-আখাউড়া রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা।”
"এই পথের নিয়মিত ট্রেন যাত্রী ও সচেতন নাগরিক মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকা-সিলেট রেলপথের আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডাবল লাইন করা খুবই জরুরি। এই লাইন ডুয়েলগেজ বা ব্রডগেজ হলে পুরোপুরি সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথে আগের মতোই ঝুঁকি থেকে যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট-আখাউড়া রেলপথ (২৩৯ কিলোমিটার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গিলমান আহমেদ, মুহাম্মদ খান, আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০+ বছর (ব্রিটিশ আমল থেকে), ৩০ বছর (দাবির সময়কাল), ২৩৯ কিলোমিটার (রেলপথ দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!