📌 ফরিদপুরের বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের ছয় শিক্ষককে সর্বহারা পার্টির সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পরিবার আতঙ্কিত, পাঁচজন শিক্ষক থানায় জিডি করেছেন
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় একটি মহিলা কলেজের ছয় শিক্ষককে সর্বহারা পার্টির সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজে। শিক্ষকদের পরিবার আতঙ্কিত, পাঁচজন শিক্ষক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুরের বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের ছয় শিক্ষককে সর্বহারা পার্টির সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
- 📌 শিক্ষকদের ফোনে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা টোকেন মানি দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
- 📌 গত ৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে শিক্ষক পরেশ কুমার পালের ফোনে ‘গৌতম বিশ্বাস’ নামে পরিচয় দিয়ে সর্বহারা পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন হুমকিদাতা।
- 📌 শিক্ষক দেবাশীষ রায়ের ছেলের পায়ে গুলি লাগলে টাকা সংগ্রহের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নিলয় কুমার সাহা ও সজল কান্তি বিশ্বাসেরও পরিবারকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
- 📌 অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন লস্করকে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়, তিনি আতঙ্কে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।
- 📌 বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, চরমপন্থী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রতারকচক্র জড়িত থাকতে পারে।
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুরের বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের শিক্ষক পরেশ কুমার পাল গত ৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে অপরিচিত একটি ফোন নম্বর থেকে কল পেয়েছিলেন। ফোনদাতা নিজেকে ‘গৌতম বিশ্বাস’ পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি সর্বহারা পার্টির বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য। তিনি নিজেকে ‘সিরাজ সিকদারের ছোট ভাই মহিউদ্দিন সিকদারের সঙ্গে কথা বলেন’ বলে দাবি করেন। পরেশ কুমার পালের ফোনে প্রথমে এক লাখ টাকা এবং পরে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার ৫০০ টাকা টোকেন মানি দাবি করা হয়। সংগঠনের সহকর্মীদের কারাগার থেকে মুক্ত করতে অর্থ প্রয়োজন বলে জানিয়ে দ্রুত টাকা পাঠাতে চাপ দেওয়া হয়।
শিক্ষক পরেশ কুমার পাল বলেন, রংপুরে এক শিক্ষক হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তারও পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। একই ধরনের হুমকি পেয়েছেন কলেজের শিক্ষক নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস, প্রদীপ কুমার সাহা ও দেবাশীষ রায়। তাদেরও চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষক দেবাশীষ রায়ের ফোনে ফোনদাতা তার ছেলের পায়ে গুলি লাগলে টাকা সংগ্রহের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সেভাবে পরিচিতজনদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে পাঠাতে বলেন’।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন লস্করও একই ধরনের ফোন পেয়েছেন। তিনি বলেন, দুইদিন আগে তাকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়। আতঙ্কে তিনি ফোনদাতাদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষককে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, হুমকিদাতারা প্রকৃতপক্ষে কোনো চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, নাকি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো প্রতারকচক্র চাঁদাবাজির চেষ্টা করছে।
"হুমকির কারণে আমরা ও আমাদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় হামলা বা প্রাণনাশের ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা করছি।"
— শিক্ষক পরেশ কুমার পাল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ, ফরিদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পরেশ কুমার পাল, দেবাশীষ রায়, নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস, প্রদীপ কুমার সাহা, রবীন লস্কর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ শিক্ষক, ১ লাখ টাকা, ২৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৫ হাজার টাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ১১টা ৫৭ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!