📌 যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক লন্ডনে স্থানান্তর করেছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে স্বর্ণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা। ফ্রান্স ও জার্মানিও আগেই স্বর্ণ রিজার্ভ দেশে ফিরিয়ে এনেছে
বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের স্বর্ণ সরিয়ে নিচ্ছে। নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সপ্তাহে ঘোষণা করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে মোট ৮৬ টন স্বর্ণ লন্ডনে স্থানান্তর করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো "গুরুতর সংকটের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত" থাকা এবং স্বর্ণের "সংকট পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সহজলভ্য" রাখা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ লন্ডনে স্থানান্তর করেছে, যা মোট ৩১৩ টন স্বর্ণের মধ্যে একটি অংশ।
- 📌 ফ্রান্স ও জার্মানির মতো ইউরোপের অন্যান্য দেশও আগেই তাদের স্বর্ণ রিজার্ভ দেশে ফিরিয়ে এনেছে — জার্মানির বুন্ডেসব্যাংক ২০১৬ সালের মধ্যে ২১৬ টন স্বর্ণ স্থানান্তর করেছে, যার মধ্যে ১১১ টন নিউ ইয়র্ক থেকে এবং ১০৫ টন প্যারিস থেকে।
- 📌 লন্ডনকে বিশ্বের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে স্বর্ণের দ্রুত লেনদেন করা যায়। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি, যেখানে ২০০ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের স্বর্ণ সংরক্ষিত রয়েছে।
- 📌 স্বর্ণ স্থানান্তরের পদ্ধতি হিসেবে এক জায়গায় বিক্রি করে অন্য জায়গায় কেনা করা হয় — যেমন, নেদারল্যান্ডস নিউ ইয়র্কে ৫৯ টন স্বর্ণ বিক্রি করে লন্ডনে সমপরিমাণ নতুন মজুত কিনেছে।
- 📌 ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের স্থানান্তর সম্পর্কে নিরাপত্তা ও পরিকল্পনার ব্যাপক মাত্রা বজায় রাখে, তবে সাধারণত অভিযান পরিচালনার বিস্তারিত প্রকাশ করে না।
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের স্বর্ণ রিজার্ভের অবস্থান পরিবর্তন করছে। নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সপ্তাহে ঘোষণা করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে মোট ৮৬ টন স্বর্ণ লন্ডনে স্থানান্তর করেছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো "গুরুতর সংকটের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত" থাকা এবং স্বর্ণের "সংকট পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সহজলভ্য" রাখা।
ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের নিচে চার লাখেরও বেশি স্বর্ণের বার সংরক্ষিত রয়েছে, যার মূল্য ২০০ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি। এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি। গোল্ডম্যান স্যাকস-এর বিশ্লেষক লিনা থমাস ও ডান স্ট্রুইভেন বলেছেন, "শীতল যুদ্ধের সময় কিছু ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের স্বর্ণের একটি অংশ নিউ ইয়র্কে স্থানান্তর করেছিল।" তবে বর্তমান সময়ে এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও বাণিজ্যিক সংঘাতের কারণে স্বর্ণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।
ফ্রান্স ও জার্মানিও আগেই তাদের স্বর্ণ রিজার্ভ দেশে ফিরিয়ে এনেছে। জার্মানির বুন্ডেসব্যাংক ২০১৬ সালের মধ্যে বিদেশি সংরক্ষণাগার থেকে ২১৬ টন স্বর্ণ স্থানান্তর করেছে, যার মধ্যে ১১১ টন নিউ ইয়র্ক থেকে এবং ১০৫ টন প্যারিস থেকে আনা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ জোসেফ কাভাতোনি বিবিসিকে বলেছেন, "আমি মনে করি না যে কোনো আসন্ন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমি মনে করি মানুষ এখন তাদের রিজার্ভ সম্পদ কীভাবে পরিচালনা করতে হবে, সে বিষয়ে আরও ভালোভাবে অবগত হচ্ছে।"
নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর ওলাফ স্লেইপেন বলেছেন, "আমরা আশা করি কখনও এগুলো ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না, তবে আমাদের স্থিতিস্থাপকতা ও প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে হবে।" স্বর্ণ স্থানান্তরের একটি প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে এক জায়গায় বিক্রি করে অন্য জায়গায় কেনা। উদাহরণস্বরূপ, নেদারল্যান্ডস নিউ ইয়র্কে প্রায় ৫৯ টন স্বর্ণ বিক্রি করে লন্ডনে সমপরিমাণ নতুন মজুত কিনেছে। এছাড়াও, ২৭ টনের বেশি স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে নেদারল্যান্ডসের জাইস্ট শহরে স্থানান্তর করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে।
"গুরুতর সংকটের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত" — নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক
"সংকট পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সহজলভ্য" — নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক
"শীতল যুদ্ধের সময় কিছু ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের স্বর্ণের একটি অংশ নিউ ইয়র্কে স্থানান্তর করেছিল," — গোল্ডম্যান স্যাকস-এর গবেষণা বিশ্লেষক লিনা থমাস ও ডান স্ট্রুইভেন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, জাইস্ট (নেদারল্যান্ডস), যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জোসেফ কাভাতোনি, লিনা থমাস ও ডান স্ট্রুইভেন, ওলাফ স্লেইপেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৬ টন (স্বর্ণ), ৩১৩ টন (মোট স্বর্ণ), ২১৬ টন (জার্মানির স্বর্ণ), ১১১ টন (নিউ ইয়র্ক থেকে), ১০৫ টন (প্যারিস থেকে), ২০০ বিলিয়ন পাউন্ড (স্বর্ণের মূল্য), ৫৯ টন (বিক্রি), ২৭ টন (স্থানান্তরিত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!