📌 উত্তর বাড্ডা নতুনবাজারে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে ফাহিমা (২০), আনোয়ার (২৫), শিশু হাফসা (৮) মারা গেছেন। বাবা গোলাম হোসেনের অভিযোগ — বাড়িওয়ালাকে গ্যাস লিকেজ জানানো হয়েছিল।
এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন ফাহিমা আক্তার — নিজের অনলাইন ব্যবসা বড় করবেন, স্বামী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে নতুন সংসার গড়বেন, আট বছরের ভাগনি হাফসাকে ঢাকায় নতুন স্কুলে ভর্তি করাবেন। কিন্তু রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ভাড়া বাসায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে মুহূর্তেই সব শেষ। দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন আনোয়ার হোসেন ওরফে শাহিন (২৫), শিশু হাফসা ও সর্বশেষ ফাহিমা (২০)। এক পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে কুমিল্লার দেবীদ্বারে স্বজনদের এখন শুধু কান্না আর শোকের দীর্ঘশ্বাস। বাবা গোলাম হোসেনের অভিযোগ — বাড়িওয়ালাকে গ্যাস লিকেজের কথা জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নিহত ৩ জন: আনোয়ার হোসেন ওরফে শাহিন (২৫), শিশু হাফসা (৮), ফাহিমা আক্তার (২০) — এক পরিবারের তিনজন।
- 📌 ঘটনা: ২১ জুলাই ভোরে উত্তর বাড্ডা নতুনবাজারের ১০০ ফিট সড়ক এলাকার ৬ তলা ভবনের নিচতলায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড।
- 📌 আনোয়ারের মৃত্যু: গত শুক্রবার সকাল ৬টা — শরীরের ৫০% দগ্ধ।
- 📌 হাফসার মৃত্যু: গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা — শরীরের ৪০% দগ্ধ।
- 📌 ফাহিমার মৃত্যু: গতকাল শনিবার সন্ধ্যা — শরীরের ৪৫% দগ্ধ; কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
- 📌 চিকিৎসা: জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট।
- 📌 ফাহিমা: দেবীদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে; জাফরগঞ্জ মীর আবদুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি, স্নাতকে ভর্তি; কেক তৈরি, পোশাক বিক্রি, অনলাইন ব্যবসা।
- 📌 বিয়ে: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — দেবীদ্বারের গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মির্জা আলী ব্যাপারী বাড়ির আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে।
- 📌 ঢাকায় আসা: দেড় মাস আগে — নতুনবাজারের ১০০ ফিট সড়ক এলাকার বাসার নিচতলায় ভাড়া।
- 📌 জানাজা ও দাফন: ফাহিমা — গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে জানাজা; বাঙ্গুরী গ্রামে স্বামীর কবরের পাশে দাফন। হাফসা — শুক্রবার সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে।
📰 বিস্তারিত
১০ মাস আগে ফাহিমা আক্তার ও আনোয়ার হোসেনের বিয়ে হয়। দেড় মাস আগে তাঁরা ঢাকায় গিয়ে সংসার শুরু করেন। ফাহিমার স্বপ্ন ছিল নিজের অনলাইন ব্যবসাকে বড় করবেন, গড়ে তুলবেন নিজেদের ভবিষ্যৎ। তাঁর সংসারে ছিল আট বছরের ভাগনি হাফসা — তাকে ঢাকায় নতুন স্কুলে ভর্তি করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ভাড়া বাসায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে মুহূর্তেই সবকিছু বদলে গেছে।
গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নতুনবাজারের ১০০ ফিট সড়ক এলাকার একটি ৬ তলা ভবনের নিচতলায় জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফাহিমা দেবীদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। জাফরগঞ্জ মীর আবদুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর স্নাতকে (সম্মান) ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি, পোশাক বিক্রি ও বিভিন্ন পণ্যের অনলাইন ব্যবসা নিয়ে নিজের একটি পরিচয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বরে দেবীদ্বারের গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মির্জা আলী ব্যাপারী বাড়ির আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় ফাহিমার। দেড় মাস আগে তারা নতুনবাজারের ১০০ ফিট সড়ক এলাকার একটি বাসার নিচতলায় ভাড়া ওঠেন। বড় বোনের মেয়ে হাফসাকেও সঙ্গে নিয়ে আসেন, যাতে ঢাকায় পড়াশোনা করাতে পারেন।
💔 শেষ তিন দিন
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২১ জুলাই ভোরে বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুটি কক্ষে। গুরুতর দগ্ধ হন আনোয়ার, ফাহিমা ও হাফসা। তাঁদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হওয়া ফাহিমা কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এর আগে গত শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে আনোয়ার হোসেন (শরীরের ৫০% দগ্ধ) এবং বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে হাফসা আক্তার (৪০% দগ্ধ) মারা যান।
আজ সকালে দেবীদ্বার সদরের গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে স্বামী আনোয়ার হোসেনের কবরের পাশে বাঙ্গুরী গ্রামে দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার শিশু হাফসাকে দাফন করা হয় তার বাবার বাড়ি দেবীদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে।
😢 বাবার আক্ষেপ ও অভিযোগ
ফাহিমাকে হারিয়ে বারবার ভেঙে পড়েছেন বাবা গোলাম হোসেন। তাঁর অভিযোগ, ঢাকার ভাড়া বাসায় ওঠার পরই গ্যাস লিকেজের বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়েছিল, কিন্তু সেটিকে গুরুত্ব দেননি তিনি। গোলাম হোসেন মুঠোফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "সময়মতো যদি ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো আজ আমার মেয়েটা বেঁচে থাকত। আমার মেয়ের সঙ্গে নাতনি হাফসাও চলে গেল। একটি অবহেলা আমাদের পুরো পরিবারকে শেষ করে দিল। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) আবু হানিফ বলেন, "আনোয়ার ও ফাহিমা দম্পতির মৃত্যুতে পুরো এলাকাবাসী শোকাহত। নতুন সংসার আর সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়েই তাঁরা ঢাকায় গিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে নিষ্পাপ শিশুটির এমন করুণ মৃত্যু পুরো এলাকাকে শোকাহত করেছে।"
"সময়মতো যদি ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো আজ আমার মেয়েটা বেঁচে থাকত। আমার মেয়ের সঙ্গে নাতনি হাফসাও চলে গেল। একটি অবহেলা আমাদের পুরো পরিবারকে শেষ করে দিল। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।" — গোলাম হোসেন, ফাহিমার বাবা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- নিহত: আনোয়ার হোসেন ওরফে শাহিন (২৫), হাফসা (৮), ফাহিমা আক্তার (২০)
- ঘটনা: ২১ জুলাই ভোর — উত্তর বাড্ডা নতুনবাজার ১০০ ফিট সড়ক, ৬ তলা ভবনের নিচতলা
- চিকিৎসা: জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট
- দগ্ধের হার: আনোয়ার ৫০%, হাফসা ৪০%, ফাহিমা ৪৫%
- মৃত্যুক্রম: হাফসা (বৃহস্পতিবার রাত ১টা) → আনোয়ার (শুক্রবার সকাল ৬টা) → ফাহিমা (শনিবার সন্ধ্যা)
- ফাহিমার পটভূমি: দেবীদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকা; জাফরগঞ্জ মীর আবদুল গফুর ডিগ্রি কলেজ; অনলাইন ব্যবসা
- বিয়ে: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — আনোয়ার হোসেন (বাঙ্গুরী গ্রাম, গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন)
- বাবা: গোলাম হোসেন
- অভিযোগ: বাড়িওয়ালাকে গ্যাস লিকেজ জানানো হয়েছিল, গুরুত্ব দেননি
- স্থানীয় মেম্বার: আবু হানিফ (গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ)
- সূত্র: প্রথম আলো, জেলা বিভাগ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!