📌 রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেছেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার শেখ হাসিনার নিপীড়নমূলক আইনি কাঠামোকে পুনরাবৃত্তি করছে। তিনি গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রত্যাশা ভঙ্গ হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম সরকারের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট আইনি কাঠামোকে অব্যাহত রাখার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর নাগরিকদের স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু প্রস্তাবিত আইন সংশোধনী তার বিপরীত পথে অগ্রসর হয়েছে। শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে অনুষ্ঠিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার আইন: জবান বন্ধের নয়া বন্দোবস্ত’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাসনাত কাইয়ূম বলেছেন, প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনীতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিপীড়নমূলক প্রথা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে
- 📌 তিনি বিএনপিকে গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে হাসিনার পথে না হাঁটার আহ্বান জানান
- 📌 গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, সরকার সুরক্ষা আইন হয়ে উঠছে, নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
- 📌 ডিএসএ ভিকটিমস নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক গোলাম মাহফুজ জোয়ার্দার অভিযোগ করেন, সাইবার পুলিশ গঠন করে সরকার নাগরিকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে
- 📌 ফাহিম মাশরুর বলেন, দল-মতনির্বিশেষে আবারও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজন হতে পারে
📰 বিস্তারিত
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারাসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে নিরাপত্তার নামে ভিন্নমত দমন করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সেই প্রথার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তিনি বলেন, অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকলে রাজনৈতিক স্বার্থে আইনের অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়বে।
গীতিকবি ও অধিকারকর্মী শহীদুল্লাহ ফরায়জী বৈঠকে বলেন, ‘এটি সাইবার সুরক্ষা আইন নয়, বরং সরকার সুরক্ষা আইন হয়ে উঠছে। নাগরিকদের সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারেরই দায়িত্ব।’
সাংবাদিক মাসুদ কামাল সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের সরকারের সমালোচনা করার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের আগে আলোচনা ও জনমত গ্রহণ করা আবশ্যক।
ডিএসএ ভিকটিমস নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক গোলাম মাহফুজ জোয়ার্দার বলেন, ‘আলোচনা ছাড়াই সাইবার পুলিশ গঠন করে সরকার নাগরিকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। এতে সাংবাদিক ও নাগরিকদের স্বাধীনতা বিপন্ন হচ্ছে।’
গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে দল-মতনির্বিশেষে আবারও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজন হবে।’
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) স্থায়ী কমিটির সদস্য কে এম জাবির, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের সংগঠক বাকী বিল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বৈঠক সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।
"গণ-অভ্যুত্থানের পর নিপীড়নমূলক আইনি কাঠামো পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, প্রস্তাবিত সংশোধনী তার বিপরীত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তোপখানা রোড, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাসনাত কাইয়ূম, শহীদুল্লাহ ফরায়জী, মাসুদ কামাল, গোলাম মাহফুজ জোয়ার্দার, ফাহিম মাশরুর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৭ (তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ধারা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!