📌 ডিএমপি সিটিটিসি মঙ্গলবার নডাইলের কালিয়া উপজেলার আমতলা থেকে মো. অনিক শেখকে (২১) গ্রেপ্তার। ফেসবুকে ইলিশ মাছ বিজ্ঞাপন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ, ৫৫০ টাকা অগ্রিম প্যাকেজিং খরচ। জব্দ: ৪ মুঠোফোন, ৮ সিম, এমএফএস তথ্য। পল্লবী থানা মামলা। ৩ বছর ধরে প্রতারণা।
ফেসবুকে ইলিশ মাছ ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রির লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেপ্তার তরুণের নাম মো. অনিক শেখ (২১)। মঙ্গলবার দুপুরে নডাইলের কালিয়া উপজেলার আমতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন বছর ধরে সহযোগীদের নিয়ে একই কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা করে আসছিলেন বলে সিটিটিসি দাবি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- গ্রেপ্তার: মো. অনিক শেখ (২১)—মঙ্গলবার দুপুরে নডাইলের কালিয়া উপজেলার আমতলা এলাকা থেকে।
- গ্রেপ্তারকারী: ডিএমপির সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) ইউনিট।
- কৌশল: ফেসবুকে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্যের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন → হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ → প্যাকেজিং খরচের নামে ৫৫০ টাকা অগ্রিম → বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা → যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
- মামলা: পল্লবী থানায়—সিটিটিসি গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনিককে শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার।
- জব্দ: চারটি মুঠোফোন, আটটি সিম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সংক্রান্ত তথ্য।
- স্বীকারোক্তি: প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
- সিটিটিসি দাবি: তিন বছর ধরে সহযোগীদের নিয়ে একই কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা।
- চলমান: পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা।
মো. অনিক শেখ: ৩ বছরের প্রতারক
ফেসবুকে ইলিশ মাছ ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রির লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেপ্তার তরুণের নাম মো. অনিক শেখ (২১)। মঙ্গলবার দুপুরে নডাইলের কালিয়া উপজেলার আমতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিটিটিসির বরাত দিয়ে ডিএমপি জানিয়েছে, অনিক শেখ দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করতেন। আগ্রহী ক্রেতাদের সঙ্গে পরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে প্রথমে প্যাকেজিং খরচের কথা বলে ৫৫০ টাকা অগ্রিম নিতেন। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা আদায় করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন।
পল্লবী থানা ও সিটিটিসির তদন্ত
এই ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে সিটিটিসি গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনিককে শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম সেল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ও এমএফএস লেনদেনের ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অনিকের অবস্থান শনাক্ত করে—যা নডাইলের কালিয়া উপজেলায় নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালিত হয়।
এই তদন্ত প্রক্রিয়া দেখায় যে সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ফরেনসিক কৌশল কতটা কার্যকর। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে সিটিটিসি কেবল অনিককেই শনাক্ত করেনি—বরং তার সহযোগীদের নেটওয়ার্কও ম্যাপ করেছে। এই ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জব্দকৃত সামগ্রী: ৪ মুঠোফোন, ৮ সিম
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযানের সময় অনিকের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চারটি মুঠোফোন, আটটি সিমের পাশাপাশি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সংক্রান্ত তথ্য জব্দ করা হয়েছে।
চারটি মুঠোফোন ও আটটি সিম ব্যবহারের তাৎপর্য হল—অনিক একাধিক পরিচয়ে একাধিক গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। একটি নম্বর ব্লক হয়ে গেলে আরেকটি ব্যবহার করতেন—যার ফলে গ্রাহকরা তাকে ধরতে পারতেন না। এমএফএস (যেমন বিকাশ, নগদ) অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে অগ্রিম টাকা গ্রহণ করতেন—যা প্রতারণার মূল চালান পদ্ধতি।
'৩ বছর ধরে একই কৌশলে প্রতারণা'
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিটিটিসি। সংস্থাটির দাবি, তিনি সহযোগীদের নিয়ে তিন বছর ধরে একই কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। এই দাবি সত্যি হলে, অনিক একটি পারিবারিক বা সংগঠিত প্রতারণা চক্রের অংশ—শুধু একা অপরাধী নন।
পুলিশ জানিয়েছে, অনিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কারণ এটি দেখাবে প্রতারণা চক্রটি কতটা বিস্তৃত এবং কত মানুষ এর শিকার হয়েছেন। সিটিটিসি সম্ভবত জব্দকৃত মুঠোফোন ও এমএফএস তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও সহযোগী ও ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করবে।
অনলাইন প্রতারণা সতর্কতা
এই ঘটনা অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে সতর্কতার গুরুত্ব তুলে ধরে। সাধারণ নিয়ম হিসেবে—অপরিচিত ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ থেকে কেনাকাটা করার আগে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা উচিত। অগ্রিম টাকা দেওয়ার আগে পণ্যের বাস্তবতা যাচাই করা—বিশেষত যেসব বিজ্ঞাপনে দাম বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম থাকে, সেগুলো সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা উচিত।
ভুক্তভোগীরা যদি এই ধরনের প্রতারণার শিকার হন, তবে দ্রুত সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা স্থানীয় থানায় অভিযোগ দাখিল করা উচিত। প্রমাণ হিসেবে চ্যাট হিস্ট্রি, লেনদেনের রসিদ, ফোন নম্বর ও অ্যাকাউন্ট তথ্য সংরক্ষণ করা উচিত—যা তদন্তে সহায়ক হয়। সিটিটিসির এই গ্রেপ্তার দেখায় যে প্রযুক্তিগত প্রমাণ থাকলে সাইবার অপরাধীদের ধরা সম্ভব।
'অনিক শেখ দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করতেন। আগ্রহী ক্রেতাদের সঙ্গে পরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে প্রথমে প্যাকেজিং খরচের কথা বলে ৫৫০ টাকা অগ্রিম নিতেন।'—ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!