📌 ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের মামলায় বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার দুজন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। চালক সোহেল রানাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। নিহতের সঙ্গে থাকা ৫ লাখ টাকা লোভে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের মামলায় বাসের সুপারভাইজার সাজু লস্কর ও হেলপার মাহবুব আলম মনির দুজন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বাসের চালক সোহেল রানাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলামের আবেদনে আদালত দুজনকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু পরে তা ৪ দিনে কমিয়ে দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হত্যার স্বীকারোক্তি: বাসের সুপারভাইজার সাজু লস্কর ও হেলপার মাহবুব আলম মনির দুজন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, নিহতের কোমরে গুঁজে রাখা ৫ লাখ টাকা দেখে লোভে পড়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
- 📌 চালক ৪ দিনের রিমান্ডে: বাসের চালক সোহেল রানাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আদালত প্রাথমিকভাবে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, পরে তা কমিয়ে দেওয়া হয়।
- 📌 মরদেহের শনাক্তকরণ: নিহত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. হাসান বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন। মরদেহের শরীরে জখমের চিহ্ন এবং নাক, মাথা ও ডান হাতের কবজি সাদা স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল।
- 📌 ৫ লাখ টাকা লোভে হত্যা: নিহতের সঙ্গে থাকা গ্রামের জমি বিক্রির নগদ ৫ লাখ টাকা ও খাদ্যদ্রব্য লোভে পড়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে জানা গেছে।
- 📌 মামলার বিবরণ: গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টায় ইসমাইল হোসেন জামালপুর থেকে গাজীপুরের বাসায় আসার সময় বাসে ওঠেন। কিন্তু মরদেহ উদ্ধারের সময় তার সঙ্গে থাকা টাকা ও মালামাল পাওয়া যায়নি।
📰 বিস্তারিত
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাজু লস্কর ও মাহবুব আলম মনিরের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। আদালত দুজনকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন শুনানোর পর ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টায় ইসমাইল হোসেন জামালপুর থেকে গাজীপুরের বাসায় আসার সময় বাসে ওঠেন। তিনি গ্রামের জমি বিক্রির নগদ ৫ লাখ টাকা ও বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য নিয়ে বাসে চড়েন। তার ছেলে মো. হাসান গাজীপুর জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বাবার মোবাইল কল বন্ধ পেলে তিনি সকাল ১০টার দিকে বাসস্ট্যান্ড ছেড়ে চলে যান। দুপুর ১২টার দিকে বনানী থানার প্রতিবেশী মন্টুকে ফোন করে জানানো হয়, ইসমাইল হোসেনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
মরদেহের শনাক্তকরণে ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. হাসান বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন। তিনি জানান, বনানী থানা এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী থেকে কুড়িলগামী রাস্তার ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে বাবার মরদেহ পাওয়া গেছে। কিন্তু সঙ্গে থাকা টাকা ও মালামাল পাওয়া যায়নি। তার শরীরে জখমের চিহ্ন এবং নাক, মাথা ও ডান হাতের কবজি সাদা স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল।
"আমরা লোভে পড়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছি। নিহতের কোমরে গুঁজে রাখা টাকা দেখে আমাদের মনে হয়নি যে, এটা হত্যা। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম আমরা কী ভুল করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (কাকলী থেকে কুড়িলগামী রাস্তা, পিলার ১৭৯ ও ১৮০)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসমাইল হোসেন (নিহত), মো. হাসান (ছেলে), সাজু লস্কর (সুপারভাইজার), মাহবুব আলম মনির (হেলপার), সোহেল রানা (চালক), উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম (তদন্ত কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ টাকা (লোভের কারণ), ৪ দিনের রিমান্ড (সোহেল রানা), ৭ দিনের রিমান্ড (প্রাথমিকভাবে), ৪ সেপ্টেম্বর (হত্যাকাণ্ডের তারিখ), ১৭৯ ও ১৮০ (পিলার নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!