📌 দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে অভিযানে জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও মূল্য কম দেখিয়ে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির সত্যতা পেয়েছে। অভিযানে জমির প্রকৃত মূল্য ৩ কোটি টাকা থাকলেও রেজিস্ট্রিতে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে পরিচালিত অভিযানে জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও মূল্য কম দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির সত্যতা পেয়েছে। অভিযানকালে আবাসিক জমিকে ‘নাল জমি’ হিসেবে শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিলে জমির প্রকৃত মূল্য কম উল্লেখ করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি**: জমির প্রকৃত মূল্য ৩ কোটি টাকা থাকলেও রেজিস্ট্রিতে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।
- 📌 **জমি শ্রেণি পরিবর্তন**: আবাসিক জমিকে ‘নাল জমি’ হিসেবে শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিলে জমির প্রকৃত শ্রেণি লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
- 📌 **অতিরিক্ত অর্থ আদায়**: কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত পোশাক ছাড়া সেবা দিচ্ছেন এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন।
- 📌 **দালালচক্র ও ঘুষ**: প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০টি দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পাশাপাশি দালালচক্র ও কর্মীদের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
- 📌 **নথি সংগ্রহ**: অভিযানে সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, রেজিস্ট্রেশন নথি ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিনের নেতৃত্বে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বাড্ডা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রমের পাশাপাশি দলিল, রেজিস্ট্রেশন নথি ও রেকর্ডপত্র যাচাই করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, অভিযানে বায়না দলিল ও চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশন দলিল যাচাই করে জমির মূল্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা সাধারণ গ্রাহকের মতো রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় নকলনবিশ, দলিল লেখক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেককেই নির্ধারিত পোশাক ছাড়া সেবা দিতে দেখা যায়। কর্মকর্তারা বলেন, সাধারণ পোশাকে থাকা ব্যক্তিরা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং নির্ধারিত ফি বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন।
অভিযানে আরও দেখা যায়, কার্যালয়ে সিটিজেন চার্টার টাঙানো থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ নেই। ফলে সরকারি নির্ধারিত ফি ও সেবা-সংক্রান্ত তথ্যের বদলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি বিশ্লেষণ করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, মূল্য কম দেখানো এবং রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।
"বায়না দলিল ও চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশন দলিল যাচাই করে জমির মূল্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দলিল ও নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।"
দুদক সূত্র জানিয়েছে, তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়। এছাড়াও, পিয়ন, অফিস সহকারী, মোহরার, এক্সট্রা মোহরার, নকলনবিশ ও দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ভুয়া নামজারি ও অন্যান্য জাল কাগজপত্র তৈরি করে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগও যাচাই করছে দুদক।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আল আমিন, তানজির আহমেদ, ঢাকা জেলার জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ কোটি টাকা (জমির প্রকৃত মূল্য), ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা (রেজিস্ট্রিতে দেখানো মূল্য), ৫০০-৬০০টি (দৈনিক রেজিস্ট্রেশন দলিল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!