📌 দুদকের আবেদনে ঢাকার মহানগর আদালত শাহজাহান কবিরের বিচারকবৃন্দ আবুল বারকাতের ৪৯ লাখ ৬১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ২৯ লাখ টাকার গাড়ি জব্দের পাশাপাশি তার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও তার ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদও জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবিরের বেঞ্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে সাবেক জনতা ব্যাংক চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, এ আদেশে ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার দুটি ফ্ল্যাটসহ ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ২৯ লাখ টাকার মূল্যের একটি গাড়ির। এছাড়াও তার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ (দুটি ফ্ল্যাট) ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে
- 📌 ২৯ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
- 📌 ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে সমস্ত অর্থের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি
- 📌 ৩ কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার টাকা ও ১০ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার মূল্যের অস্থাবর সম্পদও জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
- 📌 মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১৪ ধারা ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর বিধি ১৮ অনুযায়ী ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
- 📌 দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ এই আবেদনটি করছেন
- 📌 আবুল বারকাত এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি মামলা করা হয়
- 📌 ২৩ জন আসামি মামলায় অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে আবুল বারকাতসহ
📰 বিস্তারিত
দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজের আবেদনে জানানো হয়েছে, অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কোম্পানিকে অবৈধভাবে ঋণ প্রদান করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার নামে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার টাকা ও ১০ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলারের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পত্তিগুলো বিক্রি বা স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এজন্য রাষ্ট্রের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকায় আদালত ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আবুল বারকাত গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে কারাবন্দী ছিলেন। জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক মামলা করে। এই মামলায় ২৩ জনকে আসামি করা হয়। গত বছরের ১০ জুলাই পুলিশ তাঁকে ধানমন্ডি এলাকায় গ্রেপ্তার করেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ শর্তসাপেক্ষে জামিন বহাল রাখেন।
"অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্থাবর, অস্থাবর সম্পদগুলো বিক্রি, স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ নিষ্পত্তির পূর্বে অর্জিত অবৈধ সম্পত্তিসমূহ হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর/বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্রের সমূহ ক্ষতির কারণ রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহজাহান কবির (বিচারক), আবুল বারকাত (অর্থনীতিবিদ), মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ (দুদকের সহকারী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকা (স্থাবর সম্পদ), ২৯ লাখ টাকা (গাড়ি), ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা (অস্থাবর সম্পদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!