📌 কৃষি মন্ত্রণালয় সার মজুতের পর্যাপ্ততা দাবি করলেও সাংসদীয় কমিটিতে এমপিরা মাঠপর্যায়ে সংকটের অভিযোগ তুলেছেন। বিতরণের তথ্য ও বাস্তবতা মিল না পাওয়ায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন
জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সার সরবরাহ ও বিতরণের বাস্তবতা ও সরকারি তথ্যের মধ্যে দ্বন্দ্ব উঠে এসেছে। কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ সার মজুত ও বিতরণের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করলেও এমপিরা মাঠপর্যায়ে সংকটের অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা একে অপরের দাবি-দাবির মধ্যে আলোচনা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সার চাহিদা ৫৮ লাখ ৫০০ টন — এর মধ্যে ১২ লাখ ১৯ হাজার টন বিতরণ করা হয়েছে, বর্তমান মজুত ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন (গত বছরের তুলনায় বেশি)
- 📌 সরকারি তথ্য vs বাস্তবতা: মন্ত্রণালয় দাবি করে সার পর্যাপ্ত, কিন্তু এমপিরা অভিযোগ করেন, তাদের এলাকায় কৃষকরা সার পাচ্ছেন না
- 📌 রাজশাহী, নওগাঁ, চট্টগ্রাম-সিলেটে সংকটের অভিযোগ — চট্টগ্রাম ও সিলেটে সংকট নেই, কিন্তু উত্তরাঞ্চলে কিছুটা সংকট রয়েছে বলে কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন
- 📌 ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা: নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে, কিন্তু পালিয়ে যাওয়া ডিলারদের শূন্যস্থান পূরণের দাবি উঠেছে
- 📌 বৈঠকে আলোচিত ৬টি প্রধান বিষয়: সার বিতরণ মনিটরিং, কৃষিবান্ধব ব্যবস্থাপনা, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, তুলা ও ভুট্টা চাষ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, কৃষক প্রশিক্ষণ
📰 বিস্তারিত
কৃষি মন্ত্রণালয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে (২০২৬-২৭) ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির মোট চাহিদা ৫৮ লাখ ৫০০ টন। জুলাই থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার টন সার বিতরণ করা হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী দেশে সারের মজুত রয়েছে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন, যা গত অর্থবছরের তুলনায় (১০ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টন) বেশি।
কিন্তু বৈঠকে সরকার ও বিরোধী দলের এমপিরা মন্ত্রণালয়ের তথ্যের সাথে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মিল না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। রাজশাহী-৪ আসনের এমপি আবদুল বারী সরদার বলেন, ‘সরকারের তথ্য বিশ্বাস করলাম, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। জনগণ সার পাচ্ছে না। সরকারকে স্বীকার করে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে সমাধান বের করতে হবে।’
বিরোধী দলের এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী (মৌলভীবাজার-৪) ও শহিদুল ইসলাম বাবুল (ফরিদপুর-৪) বলেছেন, তাদের এলাকায় সারের কোনো সংকট নেই। তবে কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, চট্টগ্রাম ও সিলেটে সংকট নেই, কিন্তু রাজশাহী, নওগাঁ ও উত্তরাঞ্চলে কিছুটা সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোথাও কোথাও গুজব ছড়িয়ে পালিয়ে যাওয়া ডিলাররা জল-ঘোলা করার চেষ্টা করছে।’
বৈঠকে সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি, কৃষিবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, গদখালীতে ফুল গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, তুলা ও ভুট্টা চাষ বাড়ানোর এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়। কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে।’
"আমি বলেছি, আমার এলাকার সারের কোনো সংকট নেই।" — মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ, এমপি আবদুল বারী সরদার, শাহাদাত হোসেন সেলিম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম বাবুল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৮ লাখ ৫০০ টন (সার চাহিদা), ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন (বর্তমান মজুত), ১২ লাখ ১৯ হাজার টন (বিতরণ করা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!