📌 দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ডিবির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও তার ভাই ডা. শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে মোট ৩৮ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এবং তার ছোট ভাই চিকিৎসক ডা. এবিএম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে। বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হয়। দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুদক অনুমোদন: হারুন অর রশীদ ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় অভিযোগপত্র
- 📌 হারুনকে ১৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
- 📌 হারুনের নামের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২১ কোটি টাকা, বৈধ আয় মাত্র ৩ কোটি টাকা
- 📌 হারুন ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মোট ৩৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
- 📌 হারুনকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭-এর অধীনে অভিযোগ
- 📌 তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন শিগগিরই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করবেন
- 📌 ডা. শাহরিয়ার বর্তমানে প্রেসিডেন্ট রিসোর্সসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক
📰 বিস্তারিত
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম মামলায় হারুন অর রশীদকে প্রধান আসামি করে অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হয়েছে। সংস্থাটি হারুনের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে। হারুনের নামে পাওয়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকা। বিপরীতে তাঁর বৈধ আয় মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৮ টাকা। বৈধ উৎস হিসাবে পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকা। হারুন পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন শিগগিরই অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করবেন।
দুইতম মামলায় হারুনের ছোট ভাই ডা. এবিএম শাহরিয়ারকে প্রধান আসামি এবং হারুন অর রশীদকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে মোট ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ডা. শাহরিয়ার ২০১৯ সালে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্ট রিসোর্সসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মালিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এই দুই মামলায় হারুন অর রশীদ ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মোট ৩৮ কোটি ৭৫ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হারুন অর রশীদ, তাঁর স্ত্রী শিরিন আক্তার ও ছোট ভাই ডা. শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক। এছাড়াও অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৪ অক্টোবর হারুন অর রশীদ, তাঁর স্ত্রী, শ্বশুরসহ ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল দুদক।
"হারুন অর রশীদ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধানসহ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তাঁর নামে পাওয়া সম্পদের মূল্য বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এভাবে তিনি ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, ডা. এবিএম শাহরিয়ার, সাইদুর রহমান খান, মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ কোটি ৭৫ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৪ টাকা (মোট অবৈধ সম্পদ), ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকা (হারুনের অবৈধ সম্পদ), ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকা (হারুনের সম্পদের মোট মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!