📌 রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহাদুল হকের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ করে। শিক্ষকটি ২০২২ সালে ফেসবুকে পোস্ট করা চিরকুটে প্রধান শিক্ষককে দায়ী করেছিলেন
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহাদুল হকের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে গত মঙ্গলবার মহাসড়ক অবরোধ করে। বিক্ষোভে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। শিক্ষক সাহাদুল হক ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাহাদুল হক (সহকারী শিক্ষক) স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন; প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীকে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে
- 📌 বিক্ষোভের সময় ১১টা ২৫ মিনিটে বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করা হয়; ১০ মিনিট পর পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক খুলান
- 📌 ২০২২ সালের ২৭ জুলাই সাহাদুল হক ফেসবুকে পোস্ট করা চিরকুটে প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীকে দায়ী করে মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন
- 📌 শিক্ষক সাহাদুল হকের পরিবারকে দাবি পাওনা পরিশোধের বদলে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর বিরুদ্ধে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত চায়
- 📌 পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান জানান, মানসিক নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহাদুল হকের মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর বিরুদ্ধে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে। পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক খুলান।
সাহাদুল হক গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজ বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর সময় স্ট্রোক আক্রান্ত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শিক্ষক সাহাদুল হক ২০২২ সালের ২৭ জুলাই ফেসবুকে পোস্ট করা একটি চিরকুটে প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীকে দায়ী করে মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। চিরকুটে লেখা ছিল, ডায়াবেটিস বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হলে এর জন্য দায়ী থাকবেন প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী। এছাড়া আজাদ আলীর সহযোগীদেরও দায়ী করা হয়েছিল।
শিক্ষক সাহাদুল হকের মৃত্যুর পর এই চিরকুট নতুন করে আলোচিত হয়। শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর বিরুদ্ধে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অতীতে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক তাঁর প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয় গভর্নিং বডির সভাপতি মাহবুব সরকার বলেন, ‘মানসিক টর্চার বিষয়টা আপেক্ষিক। প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে অনেক কথা বলতে হয়। এখন কোন কথাটা কীভাবে কতটুকু বলা যাবে, তার কোনো প্যারামিটার নেই। তাই এটা নিপীড়ন বলা যাবে না।’ তিনি আরও জানান, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর মৃত শিক্ষকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে তাঁরা দাবি করেছেন, মৃত শিক্ষকের যে পাওনা আছে, সেগুলো দ্রুত পরিশোধ করা হয়।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান জানান, তিনি নিজেই বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাসও উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। মানসিক নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
"ডায়াবেটিস নীল হয়ে কিংবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হলে এর জন্য দায়ী থাকবেন প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, পুঠিয়া উপজেলা, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাহাদুল হক (মৃত সহকারী শিক্ষক), আজাদ আলী (প্রধান শিক্ষক), মাহবুব সরকার (গভর্নিং বডির সভাপতি), ফরিদুল ইসলাম (ওসি, পুঠিয়া থানা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১টা ২৫ মিনিট (অবরোধ সময়), ১০ মিনিট (সড়ক খোলার সময়), ২৭ জুলাই ২০২২ (চিরকুটের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!