📌 ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মরদেহ উদ্ধারের মামলায় বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার লোভে পড়ায় হত্যার জবানবন্দি দিয়েছেন। ৪ সেপ্টেম্বর ইসমাইল হোসেনের কোমরে থাকা টাকার লোভে তারা তাকে হত্যা করে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লাশ ফেলে দিয়েছিলেন।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মরদেহ উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাসের সুপারভাইজার সাজু লস্কর ও হেলপার মাহবুব আলম মনির রোববার আদালতে হত্যার জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা স্বীকার করেছেন, লোভে পড়ায় গত ৪ সেপ্টেম্বর ইসমাইল হোসেনকে হত্যা করে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লাশ ফেলে দিয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইল হোসেনকে বাসে উঠানো হয়। সুপারভাইজার সাজু লস্কর তার কোমরে থাকা টাকার লোভে পড়েন এবং হত্যার পরিকল্পনা করেন।
- 📌 হত্যার পরিকল্পনা: বাসচালক সোহেল রানাকে জড়িয়ে রেখে তারা ইসমাইলকে চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেবেন না, বরং গাজীপুরের যাত্রীদের নামিয়ে ঢাকার দিকে যাবেন।
- 📌 হত্যার পদ্ধতি: সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
- 📌 লাশ ফেলা: বিমানবন্দর দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বনানী যাওয়ার সময় তারা ইসমাইলের মৃতদেহ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ফেলে দেন।
- 📌 হত্যার পূর্বে: ইসমাইলকে ঘুমিয়ে পড়ার পর সুপারভাইজার তাকে ডাকেননি, বরং তিনজন মিলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
- 📌 সোহেল রানাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সুপারভাইজার সাজু লস্কর ও হেলপার মাহবুব আলম মনির আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের বাসের সুপারভাইজার সাজু লস্কর ও হেলপার মাহবুব আলম মনির হত্যার জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা স্বীকার করেছেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইল হোসেনকে যাত্রী হিসেবে বাসে তোলা হয়। সুপারভাইজার সাজু যখন ইসমাইলের কাছে ভাড়া চান, তখন তিনি তার কোমরের লুঙ্গির ভাঁজ থেকে অনেক টাকা দেখতে পান। বিষয়টি সাজু বাসচালক সোহেল রানাকে জানান। তারা ধারণা করেন, ইসমাইল সম্ভবত ব্যবসায়ী এবং তাদের পরিকল্পনা ছিল টাকাগুলো হাতিয়ে নেওয়া।
জবানবন্দিতে তারা বলেছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাসটি চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে নামিয়ে দেবেন না। বরং গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে ঢাকার দিকে যাবেন। একপর্যায়ে সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং গামছা পেঁচিয়ে তাঁর শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে বাস থেকে লাশ ফেলার বিষয়ে আসামিরা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর বিমানবন্দর দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বনানীতে যাবার সময় ইসমাইলের মৃতদেহ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ফেলে রেখে চলে যান। এ সময় টাকা ও ইসমাইলের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য জিনিস নিয়ে নেন তারা।
জবানবন্দিতে আরও জানানো হয়, বাসে উঠে কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসমাইল ঘুমিয়ে পড়েন। সুপারভাইজার তাঁকে গন্তব্যস্থল এলে ডেকে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু টাকা দেখে ফেলার পর লোভ সামলাতে না পেরে তাঁরা ইসমাইলকে আর ডাকেননি। এরই মধ্যে তারা তিনজন মিলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। হত্যার আগে বাসের সব যাত্রীদের তারা বিভিন্ন গন্তব্য স্থানে নামিয়ে দেন। যখন হত্যা করা হয় তখন বাসের মধ্যে ইসমাইল একাই ছিলেন।
"গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইলকে বাসে তোলা হয়। তার কোমরে থাকা টাকার লোভে পড়ায় হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। বাসচালককে জড়িয়ে রেখে ইসমাইলকে হত্যা করে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লাশ ফেলে দিয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড, গাজীপুরের বিভিন্ন স্থান, বিমানবন্দর, বনানী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসমাইল হোসেন (নিহত), সাজু লস্কর (সুপারভাইজার), মাহবুব আলম মনির (হেলপার), সোহেল রানা (চালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ সেপ্টেম্বর (তারিখ), সাড়ে ৪টা (সময়), ৪ দিন (রিমান্ড), ৩৫টি (সড়ক দুর্ঘটনা), ৪৭ জন (নিহত), ১২২ জন (আহত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!