📌 চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন তিন সহযোগীসহ যশোরের ঝুমঝুমপুরে গ্রেপ্তার — ভারতে পালাচ্ছিলেন। পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত। DDN কার্যালয়ে ৩৫ লাখ টাকা লুট, ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবির হুমকি।
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন তিন সহযোগীসহ যশোরে গ্রেপ্তার হয়েছেন — মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয় — দুপুর পৌঁনে ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- মঙ্গলবার রাত ৩টায় যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে গ্রেপ্তার — অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবি ও থানা পুলিশ।
- প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমনরা জানায় — যশোর হয়ে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন।
- বুধবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর — পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।
- চট্টগ্রাম নগরী ও রাউজান, হাটহাজারী, ফটিকছড়িতে চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা — ইমন এই নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মোবারক হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হানের সাথে।
- ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টায় চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে DDN কার্যালয়ে হামলা — ৩৫ লাখ টাকা লুট, ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তির হামলা।
- ১১ জুলাই ডেভিড ইমন পরিচয়ে DDN মালিক আদিল বিন মামুনকে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন — ২ কোটি এককালীন + মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসায় গুলি — পুলিশি পাহারায় থাকা অবস্থায়ও ঘটনা; ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি হয়েছিল।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবি ও থানা পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তিন সহযোগীসহ ডেভিট ইমনকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, যশোর হয়ে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন — বুধবার সকালে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশিরভাগ চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা। একসময় ছোট সাজ্জাদ বড় সাজ্জাদের হয়ে সব অপরাধ করে বেড়াতেন — ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তারের পর মোবারক হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, এই দুইজন একের পর এক অপরাধ করে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুঁজে পাচ্ছিল না — অবশেষে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (DDN) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয় — লুট করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা, ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এই হামলা চালায়। এর আগে গত শনিবার ডেভিড ইমন পরিচয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে DDN মালিক আদিল বিন মামুনের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করা হয়।
ফোনে ডেভিড ইমন বলেন, "ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারকে আমার নম্বরটা দেখাইয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করবো। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল ওটা দেখেছেন তো। মুজিব থেকে গিয়ে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন।"
এই হুমকির মাত্র দুই দিনের মধ্যে DDN অফিসে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে সিনেমার স্টাইলে হামলা-ভাঙচুর ও লুট করা হয় — ব্যবসা বন্ধ রাখতে হুমকি দিয়ে যায় তারা এবং হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সবশেষ, সোমবার যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে তার পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় — অভিযোগ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালায়। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয় — তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে, ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল।
এর আগে চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ — রোববার রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!