📌 কানাডার থিম পার্ক মেরিনল্যান্ড থেকে ৩০টি বেলুগা তিমি উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর। ৬টি ইতিমধ্যে শিকাগোর শেড অ্যাকুয়ারিয়াম ও টেক্সাসের সি ওয়ার্ল্ডে পৌঁছেছে। অ্যানিমেল জাস্টিস প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
কানাডার থিম পার্ক মেরিনল্যান্ড থেকে ৩০টি বেলুগা তিমি উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকুয়ারিয়ামে স্থানান্তরের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ৬টি তিমি — সিয়েরা, অ্যাকাডিয়া, ওসাইরিস, লিলুয়েট, বার্টি বটস ও ফ্র্যাঙ্কি — শিকাগোর শেড অ্যাকুয়ারিয়াম ও টেক্সাসের সান আন্তোনিওর সি ওয়ার্ল্ডে পৌঁছে গেছে। মেরিনল্যান্ডে এখনো ২৪টি তিমি ও ২টি ডলফিন রয়ে গেছে। শিকাগোর শেড অ্যাকুয়ারিয়াম জানিয়েছে, তারা মোট ১০টি তিমিকে নিয়ে এসে নতুন জীবন দেবে। তবে প্রাণী অধিকার সংস্থা 'অ্যানিমেল জাস্টিস' পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উদ্ধারকৃত তিমির সংখ্যা: ৩০টি বেলুগা তিমি (মেরিনল্যান্ড থেকে)।
- 📌 ইতিমধ্যে স্থানান্তরিত: ৬টি — সিয়েরা, অ্যাকাডিয়া, ওসাইরিস, লিলুয়েট (শিকাগো শেড অ্যাকুয়ারিয়াম); বার্টি বটস, ফ্র্যাঙ্কি (সি ওয়ার্ল্ড সান আন্তোনিও, টেক্সাস)।
- 📌 মেরিনল্যান্ডে অবশিষ্ট: ২৪টি তিমি + ২টি ডলফিন।
- 📌 শেড অ্যাকুয়ারিয়ামের লক্ষ্য: মোট ১০টি তিমি নেওয়া।
- 📌 পরিবহন পথ: পানির ট্যাংক → ঝুলন্ত স্লিং → ট্রাক → টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর → বিমানে নতুন ঠিকানা।
- 📌 পূর্ণবয়স্ক বেলুগা: প্রায় ১৬ ফুট লম্বা, কয়েক হাজার পাউন্ড ওজন।
- 📌 পরিকল্পনা টিম: ভেটেরিনারি ডাক্তার, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, বিমান সংস্থা, সামুদ্রিক প্রাণী গবেষক — কয়েক মাস।
- 📌 সন্দেহ: অ্যানিমেল জাস্টিস (কানাডা) — নির্বাহী পরিচালক ক্যামিল ল্যাবচাক — মেরিনল্যান্ড আসল স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকাচ্ছে বলে অভিযোগ।
- 📌 কানাডার আইন: তিমিকে জোর করে খেলায় ব্যবহার বা বাচ্চা জন্মদানে বাধ্য করা নিষিদ্ধ।
📰 বিস্তারিত
নিরাপদে তিমিগুলোকে নেওয়ার জন্য প্রথমে বিশেষ ঝুলন্ত স্লিং-এর সাহায্যে পানির ট্যাংক থেকে ট্রাকে তোলা হয়। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে সরাসরি বিমানে তুলে পৌঁছানো হয় নতুন ঠিকানায়। ইতিমধ্যে সিয়েরা, অ্যাকাডিয়া, ওসাইরিস ও লিলুয়েট নামের তিমিগুলো শিকাগোর শেড অ্যাকুয়ারিয়ামে এবং বার্টি বটস ও ফ্র্যাঙ্কি টেক্সাসের সান আন্তোনিওর সি ওয়ার্ল্ডে পৌঁছে গেছে।
একটি পূর্ণবয়স্ক বেলুগা তিমি প্রায় ১৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং কয়েক হাজার পাউন্ড ওজনের হতে পারে। এত বিশাল আকৃতির প্রাণী এক দেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে যাওয়া সহজ কথা নয় — এর জন্য দরকার হয় বিশাল আয়োজন ও দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা। এই জটিল কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ভেটেরিনারি ডাক্তার, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, বিমান সংস্থা এবং সামুদ্রিক প্রাণী গবেষকদের একসঙ্গে কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করতে হয়েছে।
✈️ পরিবহন প্রক্রিয়া
ভ্রমণের সময় তিমিগুলোর যেন কোনো কষ্ট না হয় ও এরা যেন মানসিকভাবে ভয় না পায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ ঝুলন্ত কাপড়ে তুলে ট্রাকে নামানো থেকে শুরু করে বিমানের ভেতরে পানির তাপমাত্রা ঠিক রাখা ও এদের শ্বাসপ্রশ্বাস বা শারীরিক অবস্থা সারাক্ষণ পরীক্ষা করা — প্রতিটি ধাপই খুব সতর্কতার সঙ্গে সাজানো হয়েছে।
মেরিনল্যান্ডে এখনো ২৪টি তিমি ও ২টি ডলফিন রয়ে গেছে। শিকাগোর শেড অ্যাকুয়ারিয়াম জানিয়েছে, তারা মোট ১০টি তিমিকে নিয়ে এসে নতুন জীবন দেবে — যেখানে ওরা পাবে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, পরিষ্কার পানি আর সঠিক পুষ্টিকর খাবার। সি ওয়ার্ল্ড সান আন্তোনিও জানিয়েছে, তিমিগুলোর এখন সাহায্য প্রয়োজন ও তারা এদের সব ধরনের সহযোগিতা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। অন্যদিকে মেরিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, তিমিগুলোকে নতুন জায়গায় সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে পৌঁছে দেওয়াই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
🚨 প্রাণী অধিকার সংস্থার সন্দেহ
তবে কানাডার প্রাণী অধিকার রক্ষা সংস্থা অ্যানিমেল জাস্টিস মেরিনল্যান্ডের এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, পার্কটি তিমিগুলোর আসল স্বাস্থ্যঝুঁকি আর তথ্যের বিষয়টি সব সময় লুকিয়ে রাখতে চায়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ক্যামিল ল্যাবচাক জানান, এই বুদ্ধিমান প্রাণীগুলোর অবস্থা নিয়ে মেরিনল্যান্ড কখনোই স্পষ্ট কিছু বলেনি। তিমিগুলো স্থানান্তরের সময়ও তারা সেই গোপনীয়তার নীতিই ধরে রেখেছে।
কানাডার আইনে তিমিদের জোর করে কোনো খেলায় ব্যবহার করা বা বাচ্চা জন্মদানে বাধ্য করা একদম নিষিদ্ধ। তাই কানাডা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকুয়ারিয়ামে যাওয়ার পর এই তিমিগুলোকে দিয়ে যেন কোনো লাভজনক সার্কাস বা প্রদর্শনী না করানো হয়, সে বিষয়ে সরব হয়েছেন প্রাণী অধিকারকর্মীরা।
"এই বুদ্ধিমান প্রাণীগুলোর অবস্থা নিয়ে মেরিনল্যান্ড কখনোই স্পষ্ট কিছু বলেনি। তিমিগুলো স্থানান্তরের সময়ও তারা সেই গোপনীয়তার নীতিই ধরে রেখেছে।" — ক্যামিল ল্যাবচাক, নির্বাহী পরিচালক, অ্যানিমেল জাস্টিস
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান (কিশোর আলো পরিবেশিত)
- উৎস স্থান: মেরিনল্যান্ড (কানাডার থিম পার্ক)
- মোট তিমি: ৩০টি বেলুগা
- স্থানান্তরিত: ৬টি (৪ শেড অ্যাকুয়ারিয়াম + ২ সি ওয়ার্ল্ড)
- অবশিষ্ট: ২৪টি তিমি + ২টি ডলফিন
- শেড অ্যাকুয়ারিয়াম লক্ষ্য: মোট ১০টি তিমি
- নামকরা তিমি: সিয়েরা, অ্যাকাডিয়া, ওসাইরিস, লিলুয়েট (শিকাগো); বার্টি বটস, ফ্র্যাঙ্কি (টেক্সাস)
- পূর্ণবয়স্ক বেলুগা: ~১৬ ফুট, কয়েক হাজার পাউন্ড
- পরিবহন: টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে
- সমালোচক: অ্যানিমেল জাস্টিস — ক্যামিল ল্যাবচাক
- কানাডার আইন: তিমি খেলায় ব্যবহার বা বাচ্চা জন্মদানে বাধ্য করা নিষিদ্ধ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!