📌 চট্টগ্রামের রাউজানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে দুই বছরে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের তথ্য মতে, এসব হত্যাকাণ্ডের ২০ জন রাজনৈতিক কারণে নিহত হয়েছে। সবচেয়ে দুর্ধর্ষ কিলার মোহাম্মদ রায়হান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় রাজনৈতিক সন্ত্রাসের রক্তাক্ত ইতিহাস দুই বছরে আরো ২৭ জনের মৃত্যুতে প্রসারিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল মান্নানের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এই এলাকায় একের পর এক বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড চলছে। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর রাতে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের ২০ জন রাজনৈতিক কারণে নিহত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের রাউজানে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে দুই বছরে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- 📌 এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ২০ জন রাজনৈতিক কারণে নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিমের খামারবাড়ির কর্মচারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী।
- 📌 সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর রাতে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
- 📌 দুর্ধর্ষ কিলার মোহাম্মদ রায়হান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, তিনি ৩ সেপ্টেম্বর করিম হত্যাকাণ্ডের ভিডিওতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
- 📌 পুলিশের তথ্য মতে, বেশ কয়েকজন কিলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে দুর্ধর্ষ কিলারদের মধ্যে রায়হানসহ বেশ কয়েকজন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ঘটনা দুই বছরে আরো ২৭ জনের মৃত্যুতে প্রসারিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল মান্নানের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এই এলাকায় একের পর এক বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড চলছে। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ২০ জন রাজনৈতিক কারণে নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিমের খামারবাড়ির কর্মচারী মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, মুহাম্মদ আজম খান, আবু তাহের, জাহাঙ্গীর আলম, মুহাম্মদ হাসান, কমর উদ্দিন জিতু, মো. রুবেল, নুর আলম বকুল, মো. জাফর, মানিক আবদুল্লাহ, মো. ইব্রাহিম, রূপন নাথ, মো. আলমগীর, মুহাম্মদ সেলিম, দিদারুল আলম রিংকু, আবদুল হাকিম, আলমগীর আলম ওরফে আলম, জানে আলম সিকদার, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ওরফে রিয়াদ, আবদুল মুজিব ওরফে মুজিব ভান্ডারি, কাউসার উজ জামান বাবলু, মো. নাছির তালুকদার ওরফে মধু নাছির, মাকসুদুল হক চৌধুরী ওরফে মাসুদ, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান সওদাগর ও মোহাম্মদ করিম।
সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর রাতে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ৫ ঘণ্টা পর, মোহাম্মদ রায়হান নামে এক কিলার হাতে নাইন এমএম পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছোড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের আসামিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে দুর্ধর্ষ কিলার মোহাম্মদ রায়হান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, সব কটি হত্যাকাণ্ডে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, রায়হানসহ অন্য জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাউজানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। কিলারদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে এবং আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুর্ধর্ষ কয়েকজন কিলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
"এটা ঠিক নয়। পুলিশও পুলিশের মতো কাজ করছে। আশা করছি, পুলিশ সফল হবে।"
দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের একের পর এক লাশ ফেলে দেওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুবই চাপে। সন্ত্রাসীরা নিজেদের সুরক্ষিত ডেরা হিসেবে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী ও ফটিকছড়ির গহিন পাহাড়ি এলাকাকে ব্যবহার করছে। সাধারণ মানুষও তাদের বিরুদ্ধে সাহস পায় না, ফলে কিলাররা খুনের পর দিব্যি নিজেদের ডেরায় ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে প্রতিবারই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাউজান উপজেলা, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ রায়হান, সাইফুল ইসলাম (ওসি), মাসুদ আলম (পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ জন নিহত, ২০ জন রাজনৈতিক কারণে, ৩ সেপ্টেম্বর, ২৮ আগস্ট ২০২৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!