📌 জামালপুরের ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানি অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, মামলা করার ভয় দেখিয়ে, তদন্তের নামে এবং থানায় আটক করে টাকা আদায় করা হয়। এসআই জিল্লুরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে
জামালপুরের ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, তদন্তের নামে ঘুষ গ্রহণ এবং বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, এসআই জিল্লুরের কর্মকাণ্ডে সেবাপ্রার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তবে এসআই জিল্লুর রহমান অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জামালপুরের ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানি অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, মামলা করার ভয় দেখিয়ে, তদন্তের নামে এবং থানায় আটক করে টাকা আদায় করা হয়।
- 📌 জহুরুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মামলা করার জন্য ২৯ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
- 📌 আশরাফ আলী অভিযোগ করেছেন, তিনি কথা-কাটাকাটির কারণে থানায় ডাকা হয়েছিলেন এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা আটক রাখা হয়েছিল।
- 📌 বকশীগঞ্জের এক যুবদল নেতা দাবি করেছেন, মামলা করার জন্য তাঁর কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছিল।
- 📌 এসআই জিল্লুর রহমান অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেছেন এবং দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন।
- 📌 ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেছেন, এসআই জিল্লুরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের শিংভাঙ্গা গ্রামের জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মারধর করার ঘটনা ঘটে গত ১৪ জুলাই বিকেলে। স্থানীয়রা জহুরুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ছয় দিন চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরেন। ঘটনায় জহুরুলের স্ত্রী মোছা. হামেদা বেগম বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসআই জিল্লুর রহমান খরচবাবদ টাকা দাবি করেন। পরে জহুরুল তাঁকে সাড়ে চার হাজার টাকা দেন। এরপর অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য আরও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ জহুরুলের। একপর্যায়ে জহুরুল ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর গত ৩ আগস্ট অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দফায় ২৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও এখন পর্যন্ত মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেননি এসআই জিল্লুর। উল্টো তিনি রাগারাগি করেন। জানতে পেরেছি, আসামিদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন তিনি। আমরা মামলার কার্যক্রম নিয়ে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।’
অন্য একটি ঘটনায়, গত ৩০ মে সন্ধ্যায় উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আশরাফ আলীর সঙ্গে তাঁর প্রতিবেশী কোরবান আলীর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই কোরবান আলী বাদী হয়ে আশরাফ মেম্বার, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন বিকেলে মোবাইল ফোনে আশরাফ আলীকে থানায় ডেকে নেন এসআই জিল্লুর। পরে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন আশরাফ। রাত ১১টার দিকে কোরবান আলীর সঙ্গে ভবিষ্যতে আর কোনো বিরোধে জড়াবেন না—এমন মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আশরাফ আলী বলেন, ‘মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তবে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে থানায় আটকে রেখে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর আমাকে ছেড়ে দিয়েছেন এসআই জিল্লুর।’
গত ১১ জুলাই গভীর রাতে মোবাইল ফোনে সম্পর্কের জের ধরে পাশের বকশীগঞ্জ উপজেলার এক কলেজছাত্র কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে ইসলামপুরের একটি মাদ্রাসার ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসে বলে জানা গেছে। বিষয়টি ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারলে ওই কলেজছাত্র সেখান থেকে চলে যায়। পরদিন ১২ জুলাই এসআই জিল্লুর ওই দুই তরুণকে ছাত্রীর বাবার বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যান। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলে এবং সংশ্লিষ্টরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারের জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় জড়িত অপর দুই তরুণের বাড়িতে গিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁদের স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেন এসআই জিল্লুর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘বকশীগঞ্জে আমাদের বাড়িতে এসে এসআই জিল্লুর মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়েছেন। পরে আমরা তাঁকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি।’
এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবদল নেতা অভিযোগ করেন, মামলা করতে তাঁর কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়ার পর উল্টো প্রতিপক্ষের মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
"আমি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে এক টাকার ঘুষ গ্রহণের সত্যতাও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।"
এসআই মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এসআই জিল্লুরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা, চিনাডুলী ইউনিয়ন, শিংভাঙ্গা গ্রাম, চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন, বকশীগঞ্জ উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. জিল্লুর রহমান (এসআই), জহুরুল ইসলাম, আশরাফ আলী, কোরবান আলী, মো. আফজাল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ জুলাই, ২৫ হাজার টাকা, ৩ আগস্ট, ২৯ হাজার টাকা, ৩০ মে, ৪ জুন, ১১ টা, ১১ জুলাই, ১২ জুলাই, ৬০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!