📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ অনুরোধ ৪ দিনের মধ্যে পাঠানো হয়। ইউএইর আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের অপেক্ষা না করে সরকার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রয়েছে এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ অনুরোধ ৪ দিনের মধ্যে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, সরকার ইউএইর আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের অপেক্ষা না করে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের উত্থাপিত সাধারণ প্রস্তাবের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৪ দিনের মধ্যে অনুরোধ পাঠানো**: বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের মাত্র ৪ দিন পর (১৬ জুন) বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠায়, ইউএইর আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের বাধা ছাড়াই।
- 📌 **ইন্টারপোলের রেড নোটিশ**: বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে, ইউএইর ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ১২ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে।
- 📌 **পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলা**: বেনজীরের বিরুদ্ধে ছয়টি দেশের পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে, মামলায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাও আসামি।
- 📌 **সম্পদ অবরুদ্ধের প্রক্রিয়া**: বিদেশে থাকা বেনজীর ও তার পরিবারের সম্পদের অবরুদ্ধকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকুয়েস্ট (এমএলএ) পাঠানো হয়েছে।
- 📌 **জামিন ≠ প্রত্যর্পণ শেষ**: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামিন পাওয়া মানে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষ নয়। আইনি ও বিচারিক ধাপসমূহ সম্পন্ন করতে সময় লাগতে পারে।
📰 বিস্তারিত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে। ইউএইর ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ১২ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের এনসিবি ঢাকাকে জানায়, বেনজীরকে সেখানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউএইর আইনে গ্রেপ্তারের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ অনুরোধ করার বিধান থাকলেও বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত সময় অপেক্ষা করেনি। গ্রেপ্তারের মাত্র ৪ দিন পর (১৬ জুন) কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়।
ইউএইর বিচার মন্ত্রণালয় ৮ জুলাই অতিরিক্ত তথ্য ও নথি চেয়েছে। এর মধ্যে ছিল পারস্পরিকতার নিশ্চয়তা, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ, মামলার আইনি সীমাবদ্ধতা এবং সত্যায়িত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এসব নথি ৪ আগস্ট পাঠানো হয়। এরপর ইউএইর কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ ২২ আগস্ট আরও আইনি ব্যাখ্যা ও সময়সীমা সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে, যা ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জবাব দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের মতামত ১ সেপ্টেম্বর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মতামত ২ সেপ্টেম্বর পাওয়া গেছে।
বেনজীরের অবস্থান সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেন্ট লুসিয়ায় যাওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। তিনি আরও জানান, বেনজীরের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের কর্মকর্তাও আসামি। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বিলম্ব করা হয়নি। গ্রেপ্তারের মাত্র চার দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।" — স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সংসদ অধিবেশন), সংযুক্ত আরব আমিরাত (বেনজীরের গ্রেপ্তারি), বাংলাদেশের দূতাবাস আবুধাবি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ দিন (অনুরোধ পাঠানো), ৩০ দিন (ইউএইর আইনি সময়সীমা), ১২ জুন (গ্রেপ্তারি), ১৬ জুন (অনুরোধ পাঠানো), ৮ জুলাই (তথ্য চাওয়া), ২২ সেপ্টেম্বর (জবাবের শেষ তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!