📌 রংপুর আদালত চত্বরে নতুন ও পুরাতন আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিককে মারধর করা হয়। ভোটাধিকার হরণ ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতভেদের কারণে উত্তেজনা বাড়ে। সিদ্ধান্তে সমঝোতা হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়
রংপুর আদালত চত্বরে নতুন ও পুরাতন আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিককে মারধর করা হয় এবং তার ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়। ভোটাধিকার হরণ ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতভেদের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নতুন আইনজীবীরা ভোটাধিকার হরণসংক্রান্ত মুচলেকা ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮ সেপ্টেম্বর রংপুর আদালত চত্বরে নতুন ও পুরাতন আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিককে মারধর করা হয় এবং তার ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়।
- 📌 বিক্ষোভকারীরা আইনজীবী সমিতিকে ‘আওয়ামী দালালমুক্ত’ করার দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন এবং সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিবের চেম্বার ঘিরে অবস্থান নেন।
- 📌 আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন নতুন আইনজীবীদের সদস্যভুক্তির নির্দেশ দেন, কিন্তু সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিবের হস্তক্ষেপে কার্যক্রম বন্ধ হয়।
- 📌 মহানগর বিএনপির নেতা সামসুজ্জামান সামু আইনজীবী সমিতির নেতাদের সাথে বৈঠক করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত ফি দিয়ে নতুন আইনজীবীদের সদস্যভুক্তির বিষয়ে সমঝোতা হয়।
- 📌 জেবুন্নেছা জেবু অভিযোগ করেন, আইনজীবী সমিতির সদস্য সিধাংশু তাকে ধাক্কা দেন এবং পা দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন।
- 📌 আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন আইনজীবীদের সদস্যভুক্তির কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে আইনজীবী সমিতি।
📰 বিস্তারিত
রংপুর আদালত চত্বরে নতুন ও পুরাতন আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিককে মারধর করা হয়। বেলা ১টার পর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন নতুন আইনজীবীদের সদস্যভুক্তির নির্দেশ দিলে আন্দোলন কিছুটা শান্ত হয়। তবে বিকেল ৩টার পর সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিব আদালত চত্বরে এসে নতুন আইনজীবীদের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে আবারো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। নতুন আইনজীবীরা পুনরায় বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাদের সাথে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরাও যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা আইনজীবী সমিতিকে ‘আওয়ামী দালালমুক্ত’ করার দাবিতে স্লোগান দেন এবং সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিবের চেম্বার ঘিরে অবস্থান নেন।
পরিস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে যান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজুসহ অন্য নেতারা। তারা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনার জন্য নতুন আইনজীবী জেবুন্নেছা জেবুকে বার্তা দিয়ে পাঠান। জেবুন্নেছা জেবু অভিযোগ করেন, আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সিধাংশু তাকে বিষয়টি জানাতে গেলে তাকে ধাক্কা দেন এবং পা দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন। এরপর নতুন আইনজীবীরা সিধাংশুকে ধাওয়া করে মারধর করেন। পুরোনো আইনজীবীরাও সেখানে জড়ো হন এবং সিধাংশুকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। এই ঘটনায় আদালত চত্বরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সিধাংশুর বিচারের দাবিতে নতুন আইনজীবীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। পরে মহানগর যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও মিছিল নিয়ে আদালত চত্বরে প্রবেশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সামসুজ্জামান সামু আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে ভোটাধিকার হরণসংক্রান্ত মুচলেকা ছাড়া ১০ শতাংশ অতিরিক্ত ফি দিয়ে নতুন আইনজীবীদের সদস্যভুক্তির বিষয়ে সমঝোতা হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর নতুন আইনজীবীদের সদস্যভুক্তির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
"আমি সামসুজ্জামান সামুকে ডাকছিলাম। তিনি সাড়া না দিলে বিষয়টি জানাতে গেলে সিধাংশু উত্তেজিত হয়ে আমাকে ধাক্কা দেন এবং পা দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন। ভোটাধিকার হরণের শর্তে কোনো মুচলেকা দেয়া হবে না। সদস্যভুক্ত হওয়ার পরও ভোটাধিকার না থাকার শর্ত তারা মেনে নেবেন না।"
— জেবুন্নেছা জেবু, নতুন আইনজীবী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর আদালত চত্বর, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আফতাব হোসেন, শাহেদ কামাল ইবনে খতিব, জেবুন্নেছা জেবু, সামসুজ্জামান সামু, শহিদুল ইসলাম মিজু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ সেপ্টেম্বর, ১১টা, ১টা, ৩টা, ১০ শতাংশ, ৬টা, ১০ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!