📌 খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তানিয়া ১১ বছর বয়সে অভাবের কারণে ঢাকায় গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো হয়। দেড় বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়ে মাথা থেকে পায়ে পচন ধরেছে তার শরীরে। বর্তমানে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক বলেছেন, উন্নত চিকিৎসা ছাড়া বাঁচতে পারবে না
১১ বছর বয়সী তানিয়া মাথা থেকে পায়ে পচন ধরেছে নির্যাতনের কারণে। অভাবের কারণে বাবা বেলাল তাকে ঢাকায় গৃহকর্মী হিসেবে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু মেয়েটি দেড় বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়। বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। শিশুটির শরীরে ক্ষতচিহ্ন, ফাটা মাথায় একাধিক সেলাই এবং পিঠের গভীর ক্ষতস্থানে পচন ধরেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তানিয়া ১১ বছর বয়সে অভাবের কারণে ঢাকায় গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো হয়, কিন্তু দেড় বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হন।
- 📌 মিরপুরের একটি বাড়িতে রাখা হয় তাকে, যেখানে তাকে কাজে ভুল করলে শরীরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়া হতো এবং দিনের বেশিরভাগ সময় টয়লেটে আটকে রাখা হতো।
- 📌 মাথায় ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তাকে ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, যেখানে বর্তমানে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা চলছে।
- 📌 খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা রিপল বাপ্পী চাকমা বলেছেন, দীর্ঘদিনের অপুষ্টি ও নির্যাতনের কারণে শারীরিক অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। বাঁচাতে হলে প্রয়োজন উন্নত ও জরুরি চিকিৎসা।
- 📌 খাগড়াছড়ি সদর থানার পরিদর্শক মিসবাহ উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল ঢাকা হওয়ায় এখানে মামলা নেওয়ার সুযোগ নেই।
- 📌 চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ জজ আদালত মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে (৫৭) তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের করল্যাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা তানিয়া মা হারিয়ে ফেলেছেন প্রায় পাঁচ বছর আগে। অভাবের কারণে বাবা বেলাল তাকে স্থানীয় মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে অর্থোপার্জনে লাগিয়ে দেন। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে তাকে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে পাঠিয়ে দেন। তবে বাবা জানতেন না যে, মেয়েটিকে ঢাকার কোনো ঠিকানায় কিংবা কার কাছে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে সেখান থেকে ওই নারী ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠান তানিয়াকে।
তানিয়া বলেন, ঢাকার মিরপুরের একটি বাড়িতে তাকে রাখা হয়েছিল। বাড়ির গৃহকর্তার নাম রাসেল এবং গৃহকর্ত্রীর নাম ছোটন। রাসেলের মিরপুরে ল্যাপটপের দোকান এবং তাঁর স্ত্রী একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তানিয়ার অভিযোগ, ওই বাড়িতে তার দিন কাটত ভয় আর নির্যাতনের মধ্যে। কাজে একটু ভুল করলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো এবং ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না।
দেড় বছর ধরে মেয়েটির অবস্থা জানতেন না বাবা বেলাল। ঢাকায় যাওয়ার পর একবারও মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি তাঁকে। মাথায় ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করার পর তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে সেখান থেকে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন বাবা বেলাল। হাসপাতালের বিছানাও জোটেনি শিশুটির। মেঝেতে শুয়েই চলছে তার চিকিৎসা। দীর্ঘদিনের অপুষ্টিতে শরীর এতটাই হাড্ডিসার হয়ে পড়েছে যে, স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকাও তার পক্ষে সম্ভব নয়।
"ক্ষীণ কণ্ঠে কেবল নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিচারের দাবি তুলল সে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতাল, মিরপুরের বাড়ি, ফেনী সদর হাসপাতাল, মাটিরাঙ্গা উপজেলা, করল্যাছড়ি গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তানিয়া (১১), বেলাল, রাসেল, ছোটন, রিপল বাপ্পী চাকমা, মিসবাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন (৫৭)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ বছর বয়স, ৫ বছর আগে, ৩ বছর, ৫৭ বছর, ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!