📌 নেপালের ল্যাংটাং লিরুং পর্বতে ২৬ আগস্টের হিমবাহ ধসে 'হিমালয়ান সুনামি' সৃষ্টি হয়। এই বিপর্যয়ে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মৃত্যু ও ৫ হাজার ৬০০ জন নিখোঁজ। বিজ্ঞানীরা তদন্ত করছেন ঘটনার কারণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার সম্ভাবনা
নেপালের ল্যাংটাং লিরুং পর্বতে ২৬ আগস্টের অগ্নিময় হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট 'হিমালয়ান সুনামি' বিশ্ববাসীকে আকস্মিকভাবে আঘাত করেছে। এই বিপর্যয়ে নেপাল ও চীনসীমান্তে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এই ঘটনাকে 'হিমালয়ান সুনামি' নামে অভিহিত করেছেন। বিজ্ঞানীরা এখনও তদন্ত করছেন এই বিপর্যয়ের কারণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬ আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে নেপালের ল্যাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর দিক থেকে ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহ ধসে পড়ে, যার ফলে ১ কিলোমিটার চওড়া ও ৭০০ মিটার লম্বা বরফের স্তূপ নিচে ধ্বংসস্তূপের ওপর আছড়ে পড়ে।
- 📌 ধসের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস ২০ কিলোমিটার পথে ১ হাজার ৭০০ মিটার উচ্চতা থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে নেমে আসে, যা বুলেট ট্রেনের মতো তীব্র বেগে ধ্বংস সৃষ্টি করে।
- 📌 বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার কারণে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা এই ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
- 📌 পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ধসের আগে হিমবাহের গতির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বরফ গলা পানি বেড়ে যাওয়া লক্ষণগুলি পরীক্ষা করা হলেও, তা যথেষ্ট ছিল না।
📰 বিস্তারিত
২৬ আগস্টের এই বিপর্যয়ে নেপালের ল্যাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর দিক থেকে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ে। এই ধসের ফলে উপত্যকায় বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ তীব্র বেগে নেমে আসে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড) এবং 'হাইরিস্ক' গ্রুপের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ধসটি প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় শুরু হয়েছিল। ধসের ফলে সৃষ্ট বরফ ও পাথরের স্তূপ ৮০০ মিটার নিচে একটি হিমবাহের ওপর আছড়ে পড়ে। এরপর এটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসার সময় লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। পরে পানি ও ধ্বংসাবশেষ বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে আসে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই বিপর্যয়ের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই এলাকার হিমবাহ গলে প্রায় ৪৫০ মিটার সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে আগে বরফে ঢাকা থাকা পাথরগুলো উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং পরিবর্তিত তাপমাত্রা ও পানির সংস্পর্শে আসছে। স্থায়ী বরফের স্তর বা পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার ফলে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানী জ্যাকব স্টেইনার বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এসব ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ধসের আগে হিমবাহের গতির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বরফ গলা পানি বেড়ে যাওয়া লক্ষণগুলি পরীক্ষা করেছেন। তবে এই লক্ষণগুলি যথেষ্ট ছিল না, যাতে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হত। জ্যাকব স্টেইনার বলেছেন, এই বিশ্লেষণ থেকে এখনও স্পষ্ট নয় যে, এই ধরনের বিপর্যয় পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব কিনা।
"এই পানি ও ধ্বংসাবশেষ প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে এটি রাসুয়াগাড়িতে ১ হাজার ৭০০ মিটার নিচে নেমে আসে। খুব অল্প দূরত্বের মধ্যেই উচ্চতার ব্যবধান অনেক বেশি ছিল। তাই এটি বুলেট ট্রেনের মতো তীব্র বেগে নিচে নেমে এসেছিল।" — ইসিমোডের ভূতত্ত্ববিদ সুদান বিকাশ মহারজন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের ল্যাংটাং লিরুং পর্বত, নেপাল-চীন সীমান্ত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল, বিজ্ঞানী জ্যাকব স্টেইনার, ভূতত্ত্ববিদ সুদান বিকাশ মহারজন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৩০০ জন মৃত্যু, ৫ হাজার ৬০০ জন নিখোঁজ, ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা, ১ কিলোমিটার চওড়া, ৭০০ মিটার লম্বা, ২০ কিলোমিটার পথ, ৭ মিনিট সময়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!