📌 যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক ঘোষণা করেছেন, মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে যা শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইটও ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ঘোষণা রাশিয়া-চীন উত্তেজনার পটভূমিতে এসেছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনা এবং ‘স্টার ওয়ার্স’-এর স্মৃতি ফিরিয়ে দিচ্ছে এই নতুন পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলকে নতুন মাত্রা দিয়েছে একটি বড় ঘোষণা। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল ঘোষণা করেছেন, মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে যা শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইটও ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ঘোষণা মহাকাশে সামরিকীকরণের নতুন যুগের সূচনা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক ঘোষণা করেছেন, মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে যা শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইটও ধ্বংস করতে পারে।
- 📌 মেইঙ্ক বলেছেন, ‘মহাকাশে আমাদের আধিপত্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ এবং এই অস্ত্র যৌথ বাহিনীকে শত্রুপক্ষের হামলা থেকে রক্ষা করতে সক্ষম।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনা এবং ‘স্টার ওয়ার্স’-এর স্মৃতি ফিরিয়ে দিচ্ছে এই পদক্ষেপ।
- 📌 রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ‘গোল্ডেন ডোম’ কৌশলকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং এর নিন্দা করেছেন।
- 📌 ২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া স্যাটেলাইট-বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মহাকাশে সামরিকীকরণের নতুন ধাপে পদার্পণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে অনুষ্ঠিত এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক ঘোষণা করেন, মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বরাবরের মতো আজও আমরা নিশ্চিত করে বলছি, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক না কেন, তা মোকাবিলার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত থাকি’।
মেইঙ্কের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের কাছে কক্ষপথে মোতায়েন করা অস্ত্র রয়েছে যা শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইটও ধ্বংস করতে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘মহাকাশেও আমাদের আধিপত্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরো বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকার করেন, কিন্তু জোর দিয়ে বলেন, তাঁর বক্তব্যের শব্দচয়ন ‘খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে’।
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত। তবে আন্তর্জাতিক আইনে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, সেগুলো গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তার ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ‘গোল্ডেন ডোম’ কৌশলকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং এর নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, এটি ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি’। ২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া স্যাটেলাইট-বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ২০২১ সালের নভেম্বরে রাশিয়া সফলভাবে একটি অব্যবহৃত স্যাটেলাইট ধ্বংস করে, যা আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরিচালিত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল।
"মহাকাশে আমাদের আধিপত্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই এখন স্পেস ফোর্সের কাছে কক্ষপথে মোতায়েন করা অস্ত্র রয়েছে, যেটি শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবার (যুক্তরাষ্ট্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ট্রয় মেইঙ্ক (যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি), ডোনাল্ড ট্রাম্প (প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট), সের্গেই লাভরভ (রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০১৯ (স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা), ২০২১ (রাশিয়ার স্যাটেলাইট ধ্বংস পরীক্ষা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!