📌 ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসের তুলনায় ব্যয় ২৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। নির্বাচনী প্রভাবের কারণে রিপাবলিকানরা সংঘাতের রাজনৈতিক দিকটি সামাল দিতে চেষ্টা করছে
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসের তুলনায় এই ব্যয় ২৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই তথ্য প্রকাশ্যে জানানো হয়নি এবং পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুদ্ধের ব্যয় বৃদ্ধির এই তথ্য আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে, যেখানে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে, যা জুলাই মাসের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।
- 📌 পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হবে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের পুনরায় মজুত পূরণে, আর ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হবে সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে।
- 📌 ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরান যুদ্ধ শুরু হয় ফেব্রুয়ারি মাসে, কিন্তু যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় সক্রিয় করে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দেশ পেলে পেন্টাগন আবার বড় পরিসরে যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- 📌 আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সমর্থন কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের এই নতুন হিসাব প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে পেন্টাগনের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে। যুদ্ধের ব্যয় বৃদ্ধির এই তথ্য এমন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতি চাপের মুখে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে, এবং রিপাবলিকানরা এই সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব সামাল দিতে চেষ্টা করছে।
পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হবে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের পুনরায় মজুত পূরণে। এছাড়া ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হবে সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে এবং যুদ্ধের কারণে হারানো সামরিক প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিপূরণে। এতে হারিয়ে যাওয়া বহু ড্রোনসহ উড়োজাহাজের ক্ষতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্পের কৌশল ছিল, প্রথমে ব্যয়বহুল ও উন্নত প্রযুক্তির নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা। কিন্তু এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান ভূগর্ভস্থ অস্ত্র সংরক্ষণাগারগুলো থেকে মাটি সরিয়ে সেগুলো আবার ব্যবহারের উপযোগী করার সময় পায়। এর ফলে দেশটির কিছু প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আবার সচল করা সম্ভব হয়।
"ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় বন্ধ করে দিতে দেশটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করার পাশাপাশি, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবার সামরিক অভিযান শুরু করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন ট্রাম্প।"
পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাবের আগে জুলাই মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান যুদ্ধে ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছিলেন। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ব্যয় সেই অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামত করতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হতে পারে, তা পেন্টাগনের যুদ্ধসংক্রান্ত ব্যয়ের হিসাবে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা বোঝা যাচ্ছে না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৭ বিলিয়ন ডলার (ব্যয়), ২৫ শতাংশ (বৃদ্ধি), ৩ নভেম্বর (নির্বাচন তারিখ), ২৯ বিলিয়ন ডলার (গোলাবারুদ), ৬ বিলিয়ন ডলার (সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!