📌 যুক্তরাষ্ট্র সরকার দুই লাখ বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে। এসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে
যুক্তরাষ্ট্র সরকার দুই লাখ বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (B1 ও B2) বাতিলের পরিকল্পনা করছে। এসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুই লাখ বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
- 📌 ভিসা বাতিলের আওতায় থাকবে ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া B1 ও B2 ভিসাধারীরা
- 📌 যারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে
- 📌 ভিসা বাতিল হলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার করা হবে না; আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্য অভিবাসন শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হবে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনকারীদের সমালোচনা করেছেন
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্র সরকার দুই লাখ বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে। এসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একবারে সবচেয়ে বড় পরিসরে ভিসা বাতিলের ঘটনা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘আমরা ডিএইচএসের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন বিদেশিদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা শনাক্ত ও বাতিল করছি, যারা স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, কিন্তু পরে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।’ তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে না। যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের বেশির ভাগকে অন্য একটি অভিবাসন শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হবে। অর্থাৎ, তাদের ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার মর্যাদা থাকবে না, তবে আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা অন্য অভিবাসন অবস্থানে থেকে মামলার প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এমন ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন, যারা পর্যটন বা ব্যবসার ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেন। তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এবং সারা বিশ্বে মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে বিরক্ত। অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে আশ্রয়ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা নয়।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে গত বছর ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন ভিসা আবেদনকারীদের ওপর একের পর এক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ইতিহাস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া, ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য ব্যয়বহুল বন্ড জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া।
গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। এসব ভিসা বাতিলের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যারা মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, ধর্ষণ ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বা এসব অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া মার্কিন সরকারের নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত মার্কিন নীতির বিরোধিতা করেছেন, এমন কিছু ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
‘যুক্তরাষ্ট্রে এবং সারা বিশ্বে মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে বিরক্ত। অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে আশ্রয়ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা নয়।’ — ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ, টমি পিগট, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই লাখ, এক লাখ ৭৫ হাজার, ১৮ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!