📌 বগুড়ার শেরপুরে পল্লী চিকিৎসক সুনীল বিশ্বাসের অবৈধ অস্ত্রোপচারের পর পাঁচ বছরের শিশু ওসমান আলীর অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, যৌনাঙ্গে কাটাছেঁড়া করে চিকিৎসা দেওয়ার পর শিশুটির প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু ওসমান আলীর যৌনাঙ্গে অবৈধ অস্ত্রোপচারের অভিযোগ উঠেছে পল্লী চিকিৎসক সুনীল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। গত ২৪ আগস্ট সকালে শিশুটির প্রস্রাবের স্থানে তীব্র ব্যথা ও জ্বালাপোড়া দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে শেরপুর শহরের সান্যালপাড়া এলাকায় অবস্থিত সুনীল বিশ্বাসের চেম্বারে নিয়ে যান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অভিযোগ: পল্লী চিকিৎসক সুনীল বিশ্বাস শিশুটির যৌনাঙ্গে কাটাছেঁড়া করেন
- 📌 ঘটনার স্থান: শেরপুর শহরের সান্যালপাড়া এলাকা, বগুড়া
- 📌 শিশুটির নাম: ওসমান আলী (৫ বছর)
- 📌 অভিযুক্ত চিকিৎসক: সুনীল বিশ্বাস
- 📌 অর্থ দাবি: অস্ত্রোপচারের জন্য ১২ হাজার টাকা
- 📌 পরবর্তী ঘটনা: কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিশুর প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায় ও পেট ফুলে ওঠে
- 📌 চিকিৎসা: শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি
📰 বিস্তারিত
শিশুটির বাবা জিয়াউর রহমান জানান, চেম্বারে নিয়ে যাওয়ার পর সুনীল বিশ্বাস শিশুটির প্রস্রাবের রাস্তায় জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন উল্লেখ করে ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার জন্য কিছু সময় চেয়ে নেওয়ার পরেই শিশুটির যৌনাঙ্গের মাথায় কাটাছেঁড়া করে ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়। পরে ১১ হাজার টাকা নিয়ে ওষুধ লিখে শিশুটিকে বাড়িতে পাঠানো হয়।
জিয়াউর রহমান বলেন, ‘চেম্বারের পরিবেশ ও সুনীল বিশ্বাসের উপস্থাপন দেখে আমি তাঁকে বড় চিকিৎসক মনে করেছিলাম। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি, তিনি পল্লী চিকিৎসক।’ তিনি আরও জানান, বাড়িতে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটির ব্যথা বেড়ে যায় এবং প্রস্রাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলতে শুরু করে। রাত আটটার দিকে অবস্থার আরও অবনতি হলে স্বজনেরা তাকে আবার সুনীল বিশ্বাসের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থা দেখে সুনীল বিশ্বাস চিকিৎসার জন্য নেওয়া ১১ হাজার টাকা ফেরত দেন। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে।
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, পল্লী চিকিৎসকের সার্জারি করার কোনো অনুমতি নেই। এমনকি প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লেখার ক্ষেত্রেও তাঁদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি কাটা-ছেঁড়া বা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড করে থাকেন, সেটি আইনবহির্ভূত কাজ।’
"আমি দীর্ঘদিন ধরে এমন শত শত রোগীর চিকিৎসা দিয়ে আসছি। শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়ে থাকতেই পারে। আমি তার বাবাকে টাকা ফেরত দিয়েছি। এখন আর কী হবে।"
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু জানান, এ ধরনের পল্লী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তাঁর কাছে আগে থেকেই বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও জানান, অচিরেই কথিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুর শহরের সান্যালপাড়া এলাকা, বগুড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওসমান আলী (৫), সুনীল বিশ্বাস, জিয়াউর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ বছর, ২৪ আগস্ট, ১২ হাজার টাকা, ১১ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!